আপনার সন্তানকে নিয়ে বিদেশ যেতে চান? তাহলে প্রথমেই দরকার একটি পাসপোর্ট। অনেক বাবা-মা ভাবেন, শিশুদের পাসপোর্ট করার নিয়ম হয়তো অনেক কঠিন। আসলে তা নয়। একটু জানলেই সহজেই করা যায়। এই গাইডে আমরা সব কিছু সহজ ভাষায় বলব। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।
শিশুদের ই পাসপোর্ট করার নিয়ম

বাংলাদেশে এখন সবার জন্য ই পাসপোর্ট চালু হয়েছে। শিশুদের জন্যও এই নিয়ম একই। ই পাসপোর্ট মানে হলো ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট। এতে একটি চিপ থাকে। সেই চিপে শিশুর সব তথ্য থাকে। শিশুদের ই পাসপোর্ট করার নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন করতে হবে। তারপর নির্দিষ্ট দিনে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। শিশুর বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হবে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু ছবি তোলা হয়। আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় না। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। ই পাসপোর্টে ভিসা লাগানো সহজ হয়। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্রুত পার হওয়া যায়।
বাচ্চাদের পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে
অনেকে জানতে চান, বাচ্চাদের পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে। এই তালিকাটা জানা খুব জরুরি। কারণ কোনো কাগজ বাদ পড়লে আবেদন আটকে যাবে। মূল কাগজপত্রের মধ্যে আছে শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ, বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র, শিশুর সাম্প্রতিক ছবি এবং অনলাইন আবেদন ফর্ম। এছাড়া শিশু যদি স্কুলে পড়ে, তাহলে স্কুল সার্টিফিকেটও কাজে লাগতে পারে। বাবা বা মা না থাকলে আইনি অভিভাবকের কাগজ লাগবে। সব কাগজের ফটোকপি এবং মূল কপি সাথে নিয়ে যেতে হবে।
| কাগজের নাম | বাধ্যতামূলক কিনা |
| জন্ম নিবন্ধন সনদ | হ্যাঁ |
| বাবার এনআইডি | হ্যাঁ |
| মায়ের এনআইডি | হ্যাঁ |
| শিশুর ছবি | হ্যাঁ |
| স্কুল সার্টিফিকেট | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে |
| নাগরিক সনদ | কিছু ক্ষেত্রে |
শিশু পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম পূরণের নিয়ম
শিশু পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম পূরণের নিয়ম জানা না থাকলে ভুল হতে পারে। ফর্ম পূরণ করতে হয় অনলাইনে। ওয়েবসাইট হলো www.epassport.gov.bd। প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তারপর “Apply for New Passport” অপশনে যেতে হবে। শিশুর নাম ইংরেজিতে লিখতে হবে। জন্ম তারিখ সঠিকভাবে দিতে হবে। বাবা ও মায়ের তথ্য দিতে হবে। ঠিকানা দিতে হবে। ছবি আপলোড করতে হবে। সব তথ্য দেওয়া শেষ হলে ফর্ম সাবমিট করতে হবে। একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ পাওয়া যাবে। সেই তারিখে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে।
শিশুদের পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে
শিশুদের পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে এটা জানা দরকার আগেই। ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের মেয়াদ ও পৃষ্ঠার সংখ্যার উপর। সাধারণত তিন ধরনের ফি আছে। সাধারণ, জরুরি এবং অতি জরুরি। শিশুদের জন্য আলাদা কোনো ছাড় নেই। বড়দের মতোই ফি দিতে হয়।
| পাসপোর্টের ধরন | মেয়াদ | ফি (প্রায়) |
| সাধারণ (৪৮ পৃষ্ঠা) | ৫ বছর | ৩,৪৫০ টাকা |
| সাধারণ (৪৮ পৃষ্ঠা) | ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা |
| জরুরি (৪৮ পৃষ্ঠা) | ৫ বছর | ৬,৯০০ টাকা |
| অতি জরুরি (৪৮ পৃষ্ঠা) | ৫ বছর | ১৩,৮০০ টাকা |
ফি অনলাইনে বা ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া যায়। টাকা জমা দেওয়ার রশিদ সাথে রাখতে হবে।
১৮ বছরের নিচে পাসপোর্ট করার নিয়ম
১৮ বছরের নিচে পাসপোর্ট করার নিয়ম একটু আলাদা। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো একা আবেদন করা যায় না। অভিভাবকের সম্মতি লাগে। বাবা বা মা অনলাইনে আবেদন করবেন। পাসপোর্ট অফিসেও তাদের যেতে হবে। ১৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু ছবি তোলা হয়। অভিভাবকের এনআইডি এবং সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হবে। আইনি অভিভাবকের ক্ষেত্রে আদালতের কাগজ লাগবে।
নবজাতকের পাসপোর্ট করার নিয়ম
নবজাতকের পাসপোর্ট করার নিয়ম নিয়ে অনেকে চিন্তায় পড়েন। শিশু জন্মের পরপরই পাসপোর্ট করা যায়। তবে প্রথমে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। জন্ম নিবন্ধনের পর যেকোনো সময় আবেদন করা যাবে। নবজাতকের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয় না। শুধু ছবি তোলা হয়। ছবি তুলতে বাবা বা মা শিশুকে কোলে নিয়ে বসবেন। শিশুর মুখ পরিষ্কারভাবে দেখা যেতে হবে। চোখ খোলা থাকতে হবে। সাদা পোশাক পরানো ভালো। এই বয়সে পাসপোর্ট করলে শিশুকে নিয়ে দ্রুত বিদেশ ভ্রমণ করা যায়।
- জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করুন
- অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
- পাসপোর্ট অফিসে নির্ধারিত দিনে যান
- শিশুকে পরিষ্কার সাদা পোশাকে নিয়ে যান
- বাবা বা মায়ের এনআইডি সাথে রাখুন
শিশুদের পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
শিশুদের পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা না দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই সব কাগজ আগেই গুছিয়ে নেওয়া ভালো। সবচেয়ে জরুরি কাগজ হলো শিশুর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ। এটি ডিজিটাল হতে হবে। পুরনো হাতে লেখা সনদ গ্রহণযোগ্য নয়। বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি লাগবে। ছবি অবশ্যই ল্যাব প্রিন্ট হতে হবে। মোবাইলে তোলা ছবি চলবে না। আবেদনের পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ প্রিন্ট করে নিতে হবে। ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার রশিদও রাখতে হবে।
শিশুদের পাসপোর্ট করতে কতদিন সময় লাগে
শিশুদের পাসপোর্ট করতে কতদিন সময় লাগে এটা নির্ভর করে আবেদনের ধরনের উপর। সাধারণ আবেদনে ২১ কার্যদিবস লাগতে পারে। জরুরি আবেদনে ৭ কার্যদিবসে পাওয়া যায়। অতি জরুরি আবেদনে ২ কার্যদিবসে পাওয়া যায়। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনে সময় লাগলে দেরি হতে পারে। ব্যস্ত সময়ে আরও বেশি দিন লাগতে পারে। তাই ভ্রমণের অন্তত দুই মাস আগে আবেদন করা ভালো। অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করে জানা যাবে পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে কিনা।
শিশুদের পাসপোর্ট ফি কত
শিশুদের পাসপোর্ট ফি কত এই প্রশ্নটি প্রায় সবাই করেন। ফি সরকার নির্ধারণ করে। তাই সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে। বর্তমানে ৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের সাধারণ ফি প্রায় ৩,৪৫০ টাকা। ১০ বছর মেয়াদীর জন্য ৫,৭৫০ টাকা। জরুরি ক্ষেত্রে এই ফি দ্বিগুণ হয়। ফি অনলাইনে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড দিয়ে দেওয়া যায়। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমেও দেওয়া যায়। ফি দেওয়ার পর রশিদ সাবধানে রাখুন। এই রশিদ পাসপোর্ট অফিসে দেখাতে হবে।
বাচ্চাদের পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন পদ্ধতি
বাচ্চাদের পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন পদ্ধতি এখন অনেক সহজ হয়েছে। ঘরে বসেই সব কাজ করা যায়।
- প্রথমে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে যান
- “Apply Online” বাটনে ক্লিক করুন
- নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন বা লগইন করুন
- “New Application” নির্বাচন করুন
- শিশুর সব তথ্য দিন
- ছবি আপলোড করুন
- পাসপোর্টের ধরন ও মেয়াদ বেছে নিন
- ফি পরিশোধ করুন
- অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ বেছে নিন
- স্লিপ প্রিন্ট করুন এবং নির্ধারিত দিনে অফিসে যান
অনলাইন আবেদন করলে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। তাই সময় বাঁচে।
শিশুদের পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম
শিশুদের পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম প্রথমবার আবেদনের মতোই। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের কথা ভাবতে হবে। মেয়াদ শেষ হলেও নবায়ন করা যায়। তবে আগে করলে ভালো। পুরনো পাসপোর্ট সাথে নিয়ে যেতে হবে। নতুন করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। জন্ম নিবন্ধন এবং বাবা-মায়ের এনআইডি আবারও লাগবে। ফি আবারও দিতে হবে। শিশুর চেহারা বদলে গেলে নতুন ছবি তোলা হবে। বায়োমেট্রিক আবার নেওয়া হতে পারে। নবায়ন করা পাসপোর্ট আগেরটার মতোই কাজ করে।
পাসপোর্টের জন্য জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কি
পাসপোর্টের জন্য জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কিনা, এই প্রশ্নের উত্তর হলো হ্যাঁ। শিশুর পাসপোর্ট করতে হলে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন লাগবে। এটি শিশুর পরিচয়ের প্রধান প্রমাণ। জন্ম নিবন্ধন অবশ্যই অনলাইন ভার্সনের হতে হবে। পুরনো হাতে লেখা সনদ গ্রহণযোগ্য নয়। অনলাইন জন্ম নিবন্ধন করতে হলে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনে যেতে হবে। জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে করলে বিনামূল্যে হয়। পরে করলে ফি দিতে হয়। জন্ম নিবন্ধন নম্বর পাসপোর্ট ফর্মে দিতে হবে। তাই পাসপোর্ট আবেদনের আগেই জন্ম নিবন্ধন করে রাখুন।
শিশুদের পাসপোর্টে বাবা-মায়ের এনআইডি প্রয়োজন কি
শিশুদের পাসপোর্টে বাবা-মায়ের এনআইডি প্রয়োজন কি? হ্যাঁ, অবশ্যই প্রয়োজন। এটি শিশুর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য দরকার। বাবার এনআইডি এবং মায়ের এনআইডি উভয়ই লাগতে পারে। তবে যদি কোনো একজন প্রয়াত হন, তাহলে মৃত্যু সনদ দিতে হবে। বাবা-মা বিবাহবিচ্ছেদ হলে, যার কাছে শিশু আছে তার কাগজ লাগবে। একক অভিভাবকের ক্ষেত্রে আদালতের নথি লাগতে পারে। বাবা-মায়ের এনআইডির ফটোকপি এবং মূলকপি দুটোই নিয়ে যাওয়া ভালো। পাসপোর্ট অফিসে কর্মকর্তা মূলকপি দেখতে পারেন।
| পরিস্থিতি | কাগজের প্রয়োজন |
| বাবা-মা উভয় বেঁচে আছেন | উভয়ের এনআইডি |
| বাবা বা মা প্রয়াত | মৃত্যু সনদ |
| বাবা-মা বিচ্ছেদ | অভিভাবকত্বের কাগজ |
| একক মা/বাবা | আদালতের নথি |
শিশুদের পাসপোর্ট ছবি সাইজ কত
শিশুদের পাসপোর্ট ছবি সাইজ কত, এটা জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ ভুল সাইজের ছবি হলে আবেদন প্রত্যাখ্যান হতে পারে। পাসপোর্টের জন্য ছবির সাইজ হবে ৩.৫ সেমি × ৪.৫ সেমি। পটভূমি সাদা হতে হবে। মুখ সরাসরি ক্যামেরার দিকে থাকবে। চোখ খোলা থাকতে হবে। চশমা পরা চলবে না। ছবি রঙিন হতে হবে। ল্যাব প্রিন্ট হতে হবে। মোবাইলে তোলা ছবি চলবে না। নবজাতকের ক্ষেত্রে বাবা বা মা পেছন থেকে ধরে রাখতে পারেন। তবে বাবা-মায়ের হাত যাতে ছবিতে না আসে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।
ই পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ শিশুদের জন্য
ই পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ শিশুদের জন্য এখন একটি সহজ প্রক্রিয়া। ই পাসপোর্টে শিশুর তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে। এটি নিরাপদ এবং জাল করা কঠিন। আবেদন অনলাইনে করতে হয়। অফিসে গেলে বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের শুধু ছবি তোলা হয়। খরচের দিক থেকে সাধারণ ই পাসপোর্টের ফি ৩,৪৫০ টাকা থেকে শুরু। মেয়াদ ও পৃষ্ঠার সংখ্যা অনুযায়ী ফি ভিন্ন হয়। ই পাসপোর্ট পেতে সাধারণত ২১ কার্যদিবস লাগে। জরুরি হলে কম সময়ে পাওয়া যায়। এই পাসপোর্ট বিশ্বের প্রায় সব দেশে গ্রহণযোগ্য।
সরকারি শিশু পাসপোর্ট করার নিয়ম
সরকারি শিশু পাসপোর্ট করার নিয়ম বলতে বোঝায় সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে পাসপোর্ট দেয় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। সব আবেদন এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে হয়। সরকারি ফি নির্ধারিত। এর বাইরে কাউকে টাকা দেওয়ার দরকার নেই। কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য না নেওয়াই ভালো। নিজেই অনলাইনে আবেদন করা যায়। সরকারি কর্মকর্তারা সহায়তা করেন। পাসপোর্ট অফিসে অভিযোগ বক্স আছে। কোনো সমস্যা হলে সেখানে অভিযোগ করা যায়। সরকারি নিয়ম মেনে চললে কোনো ঝামেলা হয় না।
জরুরি শিশু পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া
জরুরি শিশু পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া সাধারণ আবেদনের মতোই। তবে ফি বেশি। অনলাইনে আবেদনের সময় “জরুরি” বা “অতি জরুরি” অপশন বেছে নিতে হবে। জরুরি আবেদনে ৭ কার্যদিবসে পাওয়া যায়। অতি জরুরিতে মাত্র ২ কার্যদিবসে পাওয়া যায়। জরুরি ফি সাধারণ ফির দ্বিগুণ। অতি জরুরি ফি চার গুণ পর্যন্ত হতে পারে। হঠাৎ বিদেশ যেতে হলে এই অপশন কাজে আসে। চিকিৎসার কারণে জরুরি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ডাক্তারের সার্টিফিকেট দিলে সুবিধা পাওয়া যায়। জরুরি আবেদনেও সব কাগজ একই থাকে।
- জরুরি পাসপোর্টের ফি সাধারণের দ্বিগুণ
- অতি জরুরিতে ২ কার্যদিবসে পাওয়া যায়
- অনলাইনে আবেদনের সময়ই জরুরি অপশন বেছে নিন
- চিকিৎসাজনিত জরুরি ক্ষেত্রে ডাক্তারের সনদ সাথে রাখুন
- কাগজপত্র একই, শুধু ফি বেশি
শিশুদের ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট নিয়ম
শিশুদের ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের শুধু ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট দেওয়া হয়। এর কারণ হলো, শিশুদের চেহারা দ্রুত বদলায়। পাঁচ বছর পর নতুন পাসপোর্ট করতে হবে। তবে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা ৫ বা ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট করতে পারে। ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের ফি কম। কিন্তু ১০ বছরের পাসপোর্ট একবার করলে বেশি দিন ব্যবহার করা যায়। পরিবারের সুবিধা অনুযায়ী মেয়াদ বেছে নিন।
১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট শিশুদের জন্য করা যায় কি
১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট শিশুদের জন্য করা যায় কিনা, এই প্রশ্নের উত্তর হলো আংশিকভাবে হ্যাঁ। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট দেওয়া হয় না। কারণ তাদের চেহারা এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য দ্রুত বদলায়। কিন্তু ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুরা ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট পেতে পারে। তবে বয়স এবং পাসপোর্টের মেয়াদ মিলিয়ে দেখতে হবে। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মেয়াদ শেষ হতে পারে। সেক্ষেত্রে নবায়ন করতে হবে।
শিশুদের পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম
শিশুদের পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম খুবই সহজ। আবেদনের পর একটি আবেদন নম্বর পাওয়া যায়। সেই নম্বর দিয়ে অনলাইনে স্ট্যাটাস জানা যাবে। www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে “Track Application” অপশনে যেতে হবে। আবেদন নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিলেই স্ট্যাটাস দেখা যাবে। পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে SMS পাঠানো হয়। তখন পাসপোর্ট অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। কোনো অফিসে গিয়েও স্ট্যাটাস জানা যায়। হেল্পলাইনে ফোন করেও তথ্য পাওয়া যায়।
শিশুদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া
শিশুদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া অনেকটা বড়দের মতোই। আবেদনের পর পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। স্থানীয় থানার পুলিশ বাড়িতে আসতে পারে। বাবা বা মায়ের সাথে কথা বলা হয়। শিশুর পরিচয় যাচাই করা হয়। ঠিকানা সঠিক কিনা দেখা হয়। কাগজপত্র সঠিক থাকলে সমস্যা হয় না। ভেরিফিকেশন শেষে পুলিশ রিপোর্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠায়। তারপর পাসপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয়। বাড়িতে পুলিশ আসলে সব কাগজপত্র দেখাতে প্রস্তুত থাকুন।
শিশুদের পাসপোর্ট ডেলিভারি সময়
শিশুদের পাসপোর্ট ডেলিভারি সময় নিয়ে অনেকে চিন্তা করেন। সাধারণ আবেদনে ২১ কার্যদিবস লাগে। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনে দেরি হলে বেশি সময় লাগতে পারে। পাসপোর্ট তৈরি হলে SMS আসে। তখন নির্ধারিত অফিস থেকে তুলতে হবে। কাউকে পাঠালে তার এনআইডি এবং সম্মতিপত্র লাগবে। কুরিয়ারে পাওয়ারও ব্যবস্থা আছে। কুরিয়ারে অতিরিক্ত ফি লাগতে পারে। ডেলিভারির সময় পুরনো পাসপোর্ট এবং আবেদনের স্লিপ সাথে রাখুন। যদি SMS না আসে, তাহলে ওয়েবসাইটে স্ট্যাটাস চেক করুন।
শিশুদের পাসপোর্ট করতে অভিভাবকের অনুমতি
শিশুদের পাসপোর্ট করতে অভিভাবকের অনুমতি অবশ্যই লাগে। ১৮ বছরের নিচে যেকোনো শিশুর পাসপোর্ট করতে বাবা বা মায়ের সম্মতি দরকার। তারা অনলাইনে আবেদন করেন। অফিসেও তাদের যেতে হয়। অভিভাবক ছাড়া শিশু একা যেতে পারবে না। যদি বাবা ও মা উভয়ই থাকেন, তাহলে যেকোনো একজন যেতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে উভয়কে যেতে বলা হতে পারে। অভিভাবক বিদেশে থাকলে নোটারি করা সম্মতিপত্র দিতে হবে। এটি দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করতে হতে পারে।
| পরিস্থিতি | করণীয় |
| বাবা-মা দেশে আছেন | যেকোনো একজন অফিসে যাবেন |
| বাবা বিদেশে | নোটারি সম্মতিপত্র পাঠাবেন |
| মা বিদেশে | নোটারি সম্মতিপত্র পাঠাবেন |
| উভয়ই প্রয়াত | আইনি অভিভাবকের কাগজ লাগবে |
শিশুদের পাসপোর্ট করতে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে কি
শিশুদের পাসপোর্ট করতে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে কি? হ্যাঁ, সাধারণত লাগে। তবে সব ক্ষেত্রে পুলিশ বাড়িতে আসে না। কখনো ফোনে যোগাযোগ করা হয়। পুলিশ ভেরিফিকেশনের উদ্দেশ্য হলো শিশুর পরিচয় নিশ্চিত করা। পরিবারের তথ্য যাচাই করা। এটি একটি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। ভেরিফিকেশনে সহযোগিতা করুন। সব সত্য তথ্য দিন। মিথ্যা তথ্য দিলে পাসপোর্ট বাতিল হতে পারে। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পর পাসপোর্ট প্রিন্ট হওয়া শুরু হয়।
শিশুদের পাসপোর্ট আবেদন সংশোধন করার নিয়ম
শিশুদের পাসপোর্ট আবেদন সংশোধন করার নিয়ম জানা দরকার। কারণ আবেদনে ভুল তথ্য গেলে সমস্যা হয়। অনলাইনে আবেদন করার পর এবং সাবমিট করার আগে সংশোধন করা যায়। সাবমিটের পর সংশোধন করতে হলে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। পুরনো আবেদন বাতিল করে নতুন আবেদন করতে হতে পারে। ফি আবার দিতে হতে পারে। তাই আবেদন ফর্ম পূরণের সময় সব তথ্য ভালো করে যাচাই করুন। বিশেষ করে নাম, জন্ম তারিখ এবং ঠিকানা সঠিক কিনা দেখুন।
শিশুদের পাসপোর্ট রিনিউ করতে কী লাগে
শিশুদের পাসপোর্ট রিনিউ করতে কী লাগে তা জেনে রাখুন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিনিউ করা ভালো। দরকারি কাগজপত্র হলো পুরনো পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডি, নতুন ছবি এবং অনলাইন আবেদন ফর্ম। প্রক্রিয়া প্রথমবারের মতোই। অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ফি দিতে হবে। অফিসে যেতে হবে। নতুন বায়োমেট্রিক নেওয়া হতে পারে। শিশুর চেহারা বদলে গেলে নতুন ছবি তোলা হবে। রিনিউ করা পাসপোর্ট পাওয়ার পর পুরনোটা ফেরত দিতে হয়।
বাংলাদেশে শিশুদের পাসপোর্ট করার নিয়ম
বাংলাদেশে শিশুদের পাসপোর্ট করার নিয়ম সব নাগরিকের জানা উচিত। বাংলাদেশের যেকোনো শিশু পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য। শিশুর বাংলাদেশি নাগরিকত্ব থাকতে হবে। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ হয়। বাংলাদেশে পাসপোর্ট অফিস অনেক জায়গায় আছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ সব বিভাগীয় শহরে অফিস আছে। এমনকি অনেক জেলায়ও অফিস আছে। কাছের অফিস খুঁজে নিয়ে যাওয়া সুবিধাজনক। অনলাইনে আবেদনের সময় পাসপোর্ট অফিস বেছে নেওয়া যায়।
শিশুদের পাসপোর্ট করতে নাগরিক সনদ লাগে কি
শিশুদের পাসপোর্ট করতে নাগরিক সনদ লাগে কি, এই প্রশ্নের উত্তর হলো সব ক্ষেত্রে নয়। জন্ম নিবন্ধনই প্রধান কাগজ। কিছু ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিস নাগরিক সনদ চাইতে পারে। এটি ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে নেওয়া যায়। বিনামূল্যে বা সামান্য ফিতে পাওয়া যায়। নাগরিক সনদে শিশুর পরিবারের তথ্য থাকে। এটি থাকলে ভালো। তবে না থাকলেও সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে নিরাপত্তার জন্য একটি রেখে দিন। কোনো সমস্যায় কাজে লাগতে পারে।
শিশুদের পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করণীয়

শিশুদের পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে অনেকে জানেন না। প্রথম কাজ হলো থানায় জিডি করা। জিডি মানে সাধারণ ডায়েরি। থানায় গিয়ে হারানোর বিষয়টি জানাতে হবে। তারপর পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। জিডির কপি এবং অন্যান্য কাগজ নিয়ে যেতে হবে। নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে। পুরনো পাসপোর্ট নম্বর মনে রাখলে ভালো হয়। সব কাগজ একটি নিরাপদ জায়গায় রাখুন। পাসপোর্টের ফটোকপি সবসময় রেখে দিন। হারিয়ে গেলে কাজে লাগবে।
শিশুদের পাসপোর্ট করার ধাপে ধাপে নিয়ম
শিশুদের পাসপোর্ট করার ধাপে ধাপে নিয়ম একবার জানলে কাজটা সহজ মনে হবে। প্রথমে জন্ম নিবন্ধন করুন। তারপর www.epassport.gov.bd-তে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। আবেদন ফর্ম পূরণ করুন। পাসপোর্টের ধরন বেছে নিন। ফি অনলাইনে বা ব্যাংকে জমা দিন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ বেছে নিন। স্লিপ প্রিন্ট করুন। নির্ধারিত দিনে সব কাগজ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যান। বায়োমেট্রিক দিন। পুলিশ ভেরিফিকেশনে সহযোগিতা করুন। SMS পেলে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
পাসপোর্ট সংক্রান্ত আরও পোস্ট দেখতে
👉পাসপোর্ট সংক্রান্ত ক্যাটাগরি দেখুন।
উপসংহার
শিশুদের পাসপোর্ট করার নিয়ম জানলে কাজটা মোটেও কঠিন নয়। শুধু সঠিক কাগজপত্র এবং সঠিক প্রক্রিয়া মেনে চললেই হয়। জন্ম নিবন্ধন থেকে শুরু করে পাসপোর্ট ডেলিভারি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ এই গাইডে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি এই তথ্যগুলো আপনার কাজে আসবে। সন্তানের জন্য সঠিক সময়ে পাসপোর্ট করুন এবং নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
শিশুর বয়স কত হলে পাসপোর্ট করা যায়?
জন্মের পরপরই পাসপোর্ট করা যায়। শুধু আগে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে।
শিশুর পাসপোর্টের জন্য শিশুকে কি অফিসে যেতে হবে?
হ্যাঁ, বায়োমেট্রিক তথ্যের জন্য শিশুকে অফিসে নিয়ে যেতে হবে।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর কি ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট হয়?
না, পাঁচ বছরের কম বয়সীদের শুধু ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট দেওয়া হয়।
শিশুর পাসপোর্টে কি শিশুর ছবি দিতেই হবে?
হ্যাঁ, শিশুর নিজের ছবি দিতে হবে। বাবা-মায়ের ছবি দেওয়া যাবে না।
পুলিশ ভেরিফিকেশনে কতদিন লাগে?
সাধারণত ৭ থেকে ১৫ দিন লাগে। তবে এলাকা ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
শিশুর পাসপোর্ট অনলাইনে করা কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদন সম্পূর্ণ নিরাপদ।
পাসপোর্টের ফি কীভাবে দেওয়া যায়?
অনলাইনে কার্ডের মাধ্যমে বা সোনালী ব্যাংকে নগদে দেওয়া যায়।
শিশুর পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করব?
প্রথমে থানায় জিডি করুন, তারপর পাসপোর্ট অফিসে নতুন আবেদন করুন।
শিশুর পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কতদিন আগে নবায়ন করা উচিত?
মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩ মাস আগে নবায়নের আবেদন করা ভালো। কারণ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে।
বিদেশে থাকা অবস্থায় শিশুর পাসপোর্ট করা যাবে কি?
হ্যাঁ, বিদেশে থাকলে সেই দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে আবেদন করা যাবে। প্রক্রিয়া প্রায় একই তবে কাগজপত্র দূতাবাসে জমা দিতে হবে।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 📲






