হঠাৎ বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হলে কী করবেন? জরুরি পাসপোর্ট এমন সময়ে আপনার সেরা সমাধান। এটি সাধারণ পাসপোর্টের চেয়ে দ্রুত পাওয়া যায়। আজকের এই গাইডে আমরা জানব কীভাবে দ্রুত পাসপোর্ট পাবেন। সব তথ্য সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে। আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন।
জরুরি পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে

জরুরি পাসপোর্ট করতে সাধারণ পাসপোর্টের চেয়ে বেশি টাকা লাগে। ২০২৫ সালে এর ফি নির্ধারিত হয়েছে নতুন করে। ৫ বছরের পাসপোর্টের জন্য ফি ১০,৫০০ টাকা। ১০ বছরের পাসপোর্টের জন্য ১৫,৫০০ টাকা লাগে। এই টাকায় জরুরি সেবা চার্জ যুক্ত থাকে। অতিরিক্ত ৫,০০০ টাকা জরুরি প্রক্রিয়ার জন্য দিতে হয়। এসএমএস সেবার জন্য আরও ২০০ টাকা যোগ হয়।
আপনি যদি নতুন পাসপোর্ট করেন বা নবায়ন করেন, ফি একই। কিন্তু হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আলাদা চার্জ আছে। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা দিতে হয়। সব টাকা অনলাইনে জমা দেওয়া যায়। বিকাশ, নগদ বা ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট করা সহজ।
জরুরি পাসপোর্ট করার আগে খরচ সম্পর্কে ভালো ধারণা নিন। এতে আপনি সঠিক পরিকল্পনা করতে পারবেন। টাকা জমা দেওয়ার পর রসিদ সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে এটি কাজে লাগবে।
জরুরি পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়
জরুরি পাসপোর্ট সাধারণত ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসে পাওয়া যায়। কখনো কখনো আরও দ্রুত পাওয়া সম্ভব। তবে এটি নির্ভর করে আপনার এলাকা এবং পাসপোর্ট অফিসের ওপর। ঢাকায় দ্রুত সেবা পাওয়া যায়। জেলা পর্যায়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। পুলিশ ভেরিফিকেশন দ্রুত হলে পাসপোর্ট তাড়াতাড়ি পাবেন।
আবেদনের পর নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করুন। অনলাইনে ট্র্যাকিং সিস্টেম আছে যেখানে আপনি দেখতে পারবেন। কিছু ক্ষেত্রে ৫ দিনেও পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। তবে এটি বিশেষ পরিস্থিতিতে হয়। সাধারণত ৭ দিন অপেক্ষা করতে হয়।
আপনার সব কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকলে দ্রুত পাবেন। কোনো তথ্য ভুল হলে সময় বেশি লাগবে। তাই আবেদন করার আগে সবকিছু যাচাই করুন। এতে আপনার সময় বাঁচবে।
জরুরি পাসপোর্ট করার নিয়ম
জরুরি পাসপোর্ট করার নিয়ম খুবই সহজ। প্রথমে আপনাকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন। ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। তারপর ফি জমা দিন অনলাইনে। পেমেন্ট সফল হলে আপনি একটি রসিদ পাবেন।
এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে নির্দিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন সব কাগজপত্র নিয়ে যান। জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, ছবি সঙ্গে রাখুন। অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়া হবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও চোখের স্ক্যান করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া ৩০ মিনিটের মতো সময় নেয়।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আপনার আবেদন গ্রহণ হবে। তারপর পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হয়। ভেরিফিকেশন শেষে পাসপোর্ট ছাপানো হয়। আপনি কুরিয়ারে বাসায় পাবেন অথবা অফিস থেকে নিতে পারবেন।
- প্রথমে অনলাইনে আবেদন করুন এবং সব তথ্য সঠিক দিন
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে অফিসে যান কাগজসহ
- বায়োমেট্রিক তথ্য দিন এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করুন
জরুরি পাসপোর্ট আবেদন ফরম
জরুরি পাসপোর্ট আবেদন ফরম অনলাইনে পাওয়া যায়। আপনাকে কোনো কাগজের ফরম কিনতে হবে না। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ফরম পূরণ করুন। ফরমে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ এসব লিখুন। বাবা-মায়ের নাম ও তাদের এনআইডি নম্বর লাগবে।
ফরমে ছবি আপলোডের অপশন আছে। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি ব্যবহার করুন। ছবির সাইজ ৩০০x৩০০ পিক্সেল হতে হবে। স্বাক্ষরও স্ক্যান করে আপলোড করতে হয়। সাদা কাগজে কালো কালিতে স্বাক্ষর করুন। তারপর সেটি স্ক্যান করুন।
ফরম পূরণের পর ভালো করে চেক করুন। কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করুন। সব ঠিক থাকলে সাবমিট করুন। সাবমিটের পর একটি আবেদন নম্বর পাবেন। এই নম্বর সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সব কাজে এটি লাগবে।
বাংলাদেশে জরুরি পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজ লাগে
জরুরি পাসপোর্ট করতে কিছু জরুরি কাগজপত্র প্রয়োজন। প্রথমেই জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে। এটি অবশ্যই অনলাইন কপি হতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিতে হবে। যদি আপনার বয়স ১৮ বছরের কম হয় তাহলে স্কুল সার্টিফিকেট লাগবে। বাবা-মায়ের এনআইডি কপিও জমা দিতে হয়।
পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে ৪ কপি। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা ছবি ব্যবহার করুন। ছবিতে চশমা পরা যাবে না। মাথায় টুপি বা স্কার্ফ না থাকা ভালো। তবে ধর্মীয় কারণে স্কার্ফ পরা যায়। পুরো মুখ স্পষ্ট দেখা যেতে হবে।
আগের পাসপোর্ট থাকলে সেটির কপি দিন। হারিয়ে গেলে জিডি কপি জমা দিতে হবে। বিয়ের সার্টিফিকেট লাগতে পারে বিবাহিতদের ক্ষেত্রে। নাম পরিবর্তন হলে গেজেট কপি লাগবে। সব কাগজ পরিষ্কার ও পড়া যায় এমন হতে হবে।
- জন্ম নিবন্ধন সনদের অনলাইন কপি ও এনআইডি প্রয়োজন
- পাসপোর্ট সাইজের ৪ কপি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি লাগবে
- আগের পাসপোর্ট বা হারানোর জিডি কপি জমা দিতে হবে
২০২৫ সালে জরুরি পাসপোর্ট ফি
২০২৫ সালে জরুরি পাসপোর্ট ফি কিছুটা বেড়েছে। সরকার নতুন নিয়ম করেছে এ বছর। ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য ১০,৫০০ টাকা লাগবে। ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ১৫,৫০০ টাকা। এর সঙ্গে জরুরি সেবা চার্জ যুক্ত আছে। সাধারণ পাসপোর্টের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ খরচ।
এসএমএস সেবার জন্য ২০০ টাকা বাড়তি দিতে হবে। কুরিয়ার চার্জ ৩০০ টাকা যদি বাসায় ডেলিভারি চান। মোট খরচ এক জায়গায় হিসাব করে নিন। পেমেন্ট করার সময় সব চার্জ একসঙ্গে জমা দিতে হয়। অনলাইন পেমেন্টে কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেই।
যদি আপনি বিদেশ থেকে আবেদন করেন তাহলে ফি ভিন্ন। প্রবাসীদের জন্য ডলারে পেমেন্ট করতে হয়। তবে দেশের ভেতরে থাকলে টাকায় দিতে পারবেন। ফি জমা দেওয়ার পর রসিদ অবশ্যই রাখুন। এটি ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।
| পাসপোর্টের ধরন | মেয়াদ | জরুরি ফি | মোট খরচ |
| সাধারণ পাসপোর্ট | ৫ বছর | ৫,৫০০ টাকা | ১০,৫০০ টাকা |
| সাধারণ পাসপোর্ট | ১০ বছর | ১০,৫০০ টাকা | ১৫,৫০০ টাকা |
| জরুরি পাসপোর্ট | ৫ বছর | ৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত | ১০,৫০০ টাকা |
| জরুরি পাসপোর্ট | ১০ বছর | ৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত | ১৫,৫০০ টাকা |
অনলাইনে জরুরি পাসপোর্ট আবেদন
অনলাইনে জরুরি পাসপোর্ট আবেদন করা খুবই সহজ। আপনাকে পাসপোর্ট অফিসে লাইন দিতে হবে না প্রথমে। ঘরে বসেই সব কাজ করতে পারবেন। প্রথমে www.passport.gov.bd এই ওয়েবসাইটে যান। সেখানে রেজিস্ট্রেশন করুন একটি নতুন অ্যাকাউন্ট দিয়ে। ইমেইল ও মোবাইল নম্বর দিতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন শেষে লগইন করুন। নতুন আবেদনের অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে জরুরি পাসপোর্ট সিলেক্ট করুন। ফরমে সব তথ্য পূরণ করুন সাবধানে। ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করুন নির্দিষ্ট সাইজে। তথ্য পূরণের পর প্রিভিউ দেখুন।
সব ঠিক থাকলে ফি পেমেন্টের অপশনে যান। বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করুন। পেমেন্ট সফল হলে একটি রসিদ ডাউনলোড করুন। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন আপনার সুবিধামতো তারিখ ও সময়ে। অনলাইন আবেদন ২৪ ঘণ্টা করা যায়।
জরুরি পাসপোর্ট ট্র্যাকিং পদ্ধতি
জরুরি পাসপোর্ট ট্র্যাকিং করা খুব সহজ এখন। আবেদনের পর আপনি জানতে চাইবেন পাসপোর্ট কোথায় আছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ট্র্যাকিং অপশন আছে। সেখানে আপনার আবেদন নম্বর দিয়ে চেক করুন। জন্ম তারিখ দিয়েও ট্র্যাক করা যায়। তথ্য দিলে আপনি দেখবেন পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা।
ট্র্যাকিং করলে আপনি জানতে পারবেন পাসপোর্ট কোন পর্যায়ে আছে। আবেদন গৃহীত হয়েছে কিনা দেখা যায়। পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়েছে কিনা সেটিও জানা যাবে। পাসপোর্ট ছাপানো হলে স্ট্যাটাস আপডেট হয়। ডেলিভারির সময় সেটিও দেখা যায়।
এসএমএসের মাধ্যমেও আপডেট পাওয়া যায়। আবেদনের সময় মোবাইল নম্বর দিলে এসএমএস আসবে। প্রতিটি ধাপে আপনাকে জানানো হবে। এতে আপনি সবসময় জানবেন পাসপোর্ট কোথায় আছে। কোনো সমস্যা হলে হটলাইনে যোগাযোগ করুন।
- ওয়েবসাইটে আবেদন নম্বর দিয়ে ট্র্যাকিং করুন সহজেই
- প্রতিটি ধাপে স্ট্যাটাস আপডেট হয় এবং এসএমএস পাবেন
- ডেলিভারির সময় পর্যন্ত ট্র্যাকিং করা যায় অনলাইনে
জরুরি পাসপোর্ট ডেলিভারি কত দিনে হয়
জরুরি পাসপোর্ট ডেলিভারি সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিনে হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হতে পারে। পাসপোর্ট ছাপানোর পর কুরিয়ারে পাঠানো হয়। কুরিয়ার সার্ভিস ২ থেকে ৩ দিনে পৌঁছায়। ঢাকায় দ্রুত ডেলিভারি পাওয়া যায়। জেলা পর্যায়ে একটু বেশি সময় লাগে।
আপনি যদি নিজে পাসপোর্ট অফিস থেকে নিতে চান তাহলে দ্রুত পাবেন। ডেলিভারির আগে এসএমএস আসবে আপনার মোবাইলে। কুরিয়ার ট্র্যাকিং নম্বরও পাবেন। এই নম্বর দিয়ে কুরিয়ার ট্র্যাক করা যায়। কুরিয়ার আসার আগে আপনাকে ফোন করবে।
ডেলিভারি নিতে মূল এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন দেখাতে হবে। নিজে না গেলে অন্য কাউকে পাঠাতে পারেন। তবে তাকে আপনার পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিতে হবে। ডেলিভারি নেওয়ার পর পাসপোর্ট ভালো করে চেক করুন। কোনো ভুল থাকলে সঙ্গে সঙ্গে জানান।
ই-পাসপোর্ট জরুরি করতে কত লাগে
ই-পাসপোর্ট এখন বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড পাসপোর্ট। সব নতুন পাসপোর্ট ই-পাসপোর্ট হয়। জরুরি সেবায় ই-পাসপোর্ট করতে খরচ একটু বেশি। ৫ বছরের জন্য ৭,৮০০ টাকা। ১০ বছরের জন্য ১০,৫০০ টাকা।
ই-পাসপোর্টে বায়োমেট্রিক চিপ থাকে। এতে আপনার সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে। আঙুলের ছাপ, ছবি, চোখের তথ্য থাকে। এটি অনেক বেশি নিরাপদ। বিদেশে সহজে ভেরিফাই করা যায়।
ই-পাসপোর্ট নিয়ে সারা বিশ্বে যাওয়া যায়। কোনো দেশে ইমিগ্রেশনে সমস্যা হয় না। মেশিন রিডেবল হওয়া
১০ বছর মেয়াদি জরুরি পাসপোর্ট
১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। বারবার নবায়নের ঝামেলা নেই। জরুরি সেবায় এই পাসপোর্ট পেতে খরচ বেশি। ১০,৫০০ টাকা দিতে হয়। তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য বৈধ থাকে।
১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট বিদেশে চাকরি বা পড়াশোনার জন্য ভালো। ভিসা এক্সটেনশনেও সুবিধা। পাসপোর্টের মেয়াদ কম থাকলে অনেক দেশ ভিসা দেয় না। দীর্ঘমেয়াদি পাসপোর্ট থাকলে এই সমস্যা হয় না।
জরুরি সেবায় এই পাসপোর্টও ৫-৭ দিনে পাওয়া যায়। আবেদন প্রক্রিয়া একই। শুধু মেয়াদ সিলেক্ট করার সময় ১০ বছর বেছে নিন। ফি একটু বেশি দিতে হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা পাবেন।
| মেয়াদকাল | রেগুলার ফি | জরুরি ফি | ডেলিভারি সময় | মোট বৈধতা |
| ৫ বছর | ৩,৫০০ টাকা | ৭,৮০০ টাকা | ৫-৭ দিন | ৬০ মাস |
| ১০ বছর | ৫,০০০ টাকা | ১০,৫০০ টাকা | ৫-৭ দিন | ১২০ মাস |
নতুন পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে 2025
২০২৫ সালে নতুন পাসপোর্ট করতে ফি নির্ভর করে সেবার ধরনে। সাধারণ সেবায় ৫ বছরের পাসপোর্ট ফি ৩,৫০০ টাকা। ১০ বছরের পাসপোর্ট ফি ৫,০০০ টাকা। জরুরি সেবায় ৫ বছরের জন্য ৭,৫০০ টাকা। ১০ বছরের জরুরি পাসপোর্টের ফি ১০,৫০০ টাকা। এই ফি শুধুমাত্র সরকারি খরচ। এর বাইরে কাগজপত্র, ছবি, ফটোকপি ইত্যাদিতে খরচ হয়। মোট খরচ সাধারণ সেবায় ৪,০০০-৬,০০০ টাকা। জরুরি সেবায় মোট খরচ ৮,০০০-১২,০০০ টাকা হতে পারে। বাচ্চাদের জন্য শুধু ৫ বছরের পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
২০২৫ সালের পাসপোর্ট ফি তুলনা:
| পাসপোর্ট টাইপ | মেয়াদ | সাধারণ ফি | জরুরি ফি |
| স্ট্যান্ডার্ড ই-পাসপোর্ট | ৫ বছর | ৩,৫০০ টাকা | ৭,৫০০ টাকা |
| স্ট্যান্ডার্ড ই-পাসপোর্ট | ১০ বছর | ৫,০০০ টাকা | ১০,৫০০ টাকা |
| শিশু পাসপোর্ট | ৫ বছর | ৩,৫০০ টাকা | ৭,৫০০ টাকা |
জরুরি পাসপোর্ট নবায়ন পদ্ধতি
জরুরি পাসপোর্ট নবায়ন প্রক্রিয়া নতুন পাসপোর্টের মতোই। পুরনো পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন করতে হয়। অনলাইনে www.epassport.gov.bd সাইটে যান। “রি-ইস্যু” বা “নবায়ন” অপশন সিলেক্ট করুন। পুরনো পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে তথ্য লোড করুন। প্রয়োজনীয় তথ্য আপডেট করুন। নতুন ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করুন। জরুরি সেবা বেছে নিয়ে ফি পেমেন্ট করুন। পুরনো পাসপোর্ট জমা দিতে হবে অফিসে। নতুন পাসপোর্ট পেতে ৭-১০ দিন লাগবে। নবায়নের সময় পুরনো পাসপোর্টের ভিসা ট্রান্সফার হয় না। তাই নতুন পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা নিতে হবে।
পাসপোর্ট করতে কি কি পরীক্ষা লাগে
পাসপোর্ট করতে বিশেষ পরীক্ষা লাগে না। তবে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হয়। আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। চোখের স্ক্যান করা হয়। ছবি তোলা হয় ডিজিটাল ক্যামেরায়।
পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে এসব করতে হয়। মেশিনে আঙুল রাখতে হয়। ক্যামেরায় তাকাতে হয়। কয়েক মিনিটেই শেষ হয়। কোনো ব্যথা বা কষ্ট নেই।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা লাগে না পাসপোর্টে। তবে কিছু দেশে ভিসার জন্য মেডিকেল টেস্ট লাগে। পাসপোর্ট করতে শুধু বায়োমেট্রিক দিলেই হবে। সহজ ও দ্রুত প্রক্রিয়া।
বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ:
- দশ আঙুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট
- চোখের আইরিস স্ক্যান
- ডিজিটাল ফটোগ্রাফ
- উচ্চতা মাপা
- স্বাক্ষর ডিজিটালাইজ করা
- সব তথ্য চিপে সংরক্ষণ করা
- পুরো প্রক্রিয়া ৫-১০ মিনিট
- কোনো ব্যথা বা অসুবিধা নেই
পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ২০২৫

২০২৫ সালে পাসপোর্টের কাগজপত্র সহজ হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে। সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি দিতে হবে। পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে তার কপি। নতুন আবেদনকারীদের চেয়ারমেন সার্টিফিকেট লাগে। তবে যাদের এনআইডি আছে তাদের জন্য শিথিল। নাবালকদের জন্য বাবা-মায়ের এনআইডি লাগবে। স্কুল সার্টিফিকেটও দিতে হতে পারে।
| নথির ধরন | বিবরণ | বাধ্যতামূলক |
| জাতীয় পরিচয়পত্র | স্মার্ট কার্ড বা এনআইডি | হ্যাঁ |
| জন্ম সনদ | অনলাইন জন্ম নিবন্ধন | হ্যাঁ |
| ছবি | সাদা/নীল পটভূমি ৩৫x৪৫ মিমি | হ্যাঁ |
| পুরাতন পাসপোর্ট | থাকলে কপি | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে |
| চেয়ারমেন সার্টিফিকেট | নতুন আবেদনের জন্য | ক্ষেত্রবিশেষে |
পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন কত দিনে হয়
পুলিশ ভেরিফিকেশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। রেগুলার সেবায় ১৫ থেকে ২০ দিন লাগে। জরুরি সেবায় ৫ থেকে ৭ দিন। পুলিশ আপনার বাড়িতে যাবে। প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলবে। আপনার পরিচয় যাচাই করবে। যদি সব ঠিক থাকে তাহলে দ্রুত হবে। কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে সমস্যা হতে পারে। ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হয়। তারপর পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হয়।
উপসংহার
জরুরি পাসপোর্ট এখন খুবই সহজ। আপনি চাইলে দ্রুত পাসপোর্ট পেতে পারেন। সব প্রক্রিয়া অনলাইনে করা যায়। কাগজপত্র ঠিক রাখুন এবং সময়মতো আবেদন করুন। খরচ একটু বেশি হলেও সেবা দ্রুত। বিদেশ যাত্রার জন্য এটি সেরা উপায়। সরকারি নিয়ম মেনে চলুন। ভুল তথ্য দেবেন না। সব ধাপ ফলো করুন। তাহলে আপনার পাসপোর্ট তাড়াতাড়ি পাবেন। এই গাইড আপনাকে সাহায্য করবে। আশা করি সব প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। এখন আত্মবিশ্বাসের সাথে আবেদন করুন। শুভ যাত্রা!
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
জরুরি পাসপোর্ট করতে সর্বনিম্ন কত দিন লাগে?
জরুরি পাসপোর্ট সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনে পাওয়া যায়। কিছু ক্ষেত্রে ৫ দিনেও মিলতে পারে। তবে সব কাগজ ঠিক থাকতে হবে।
জরুরি পাসপোর্টের ফি কত?
৫ বছরের জরুরি পাসপোর্টের ফি প্রায় ৬,৭০০ টাকা। ১০ বছরের জন্য খরচ প্রায় ১০,২০০ টাকা। ডেলিভারি চার্জ আলাদা।
অনলাইনে জরুরি পাসপোর্ট আবেদন কীভাবে করব?
www.epassport.gov.bd সাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। ফরম পূরণ করে ফি পেমেন্ট দিন। তারপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
জরুরি পাসপোর্টে কোন কাগজপত্র লাগে?
জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, ছবি, ভোটার আইডি কপি এবং অনলাইন ফরম লাগে। সব কাগজ আপডেট হতে হবে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন কত দিনে হয়?
জরুরি পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন ৩ থেকে ৫ দিনে হয়। সাধারণ পাসপোর্টের চেয়ে দ্রুত।
জরুরি পাসপোর্ট ট্র্যাকিং কীভাবে করব?
পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার আবেদন নম্বর দিন। সেখানে স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। এসএমএসেও তথ্য আসে।
হারানো পাসপোর্টের জরুরি পুনঃইস্যু কত দিনে হয়?
হারানো পাসপোর্টের জরুরি পুনঃইস্যু ১০ থেকে ১৫ দিনে হয়। আগে পুলিশে জিডি করতে হবে।
জরুরি পাসপোর্ট ডেলিভারি কোথায় পাব?
আপনার ঠিকানায় কুরিয়ারে ডেলিভারি হবে। অথবা পাসপোর্ট অফিস থেকে নিজে নিতে পারবেন।
রেগুলার এবং জরুরি পাসপোর্টের পার্থক্য কী?
রেগুলার পাসপোর্ট ২১ দিনে পাওয়া যায় এবং খরচ কম। জরুরি পাসপোর্ট ৭-১০ দিনে পাওয়া যায় কিন্তু খরচ দ্বিগুণ।
জরুরি পাসপোর্ট নবায়ন করা যায় কি?
হ্যাঁ, মেয়াদ শেষ হলে জরুরি পাসপোর্ট নবায়ন করা যায়। অনলাইনে আবেদন করে নতুন করে নিতে হবে।
বাচ্চাদের জন্য জরুরি পাসপোর্ট করা যায় কি?
হ্যাঁ, বাচ্চাদের জন্যও জরুরি পাসপোর্ট করা যায়। বাবা-মার এনআইডি এবং জন্ম সনদ লাগবে।
জরুরি পাসপোর্টের ছবি কেমন হতে হবে?
ছবি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে হতে হবে। সাইজ ৩.৫ x ৪.৫ সেন্টিমিটার। কান খোলা এবং পরিষ্কার মুখ থাকতে হবে।
অনলাইনে ফি পেমেন্ট না দিলে কী হবে?
অনলাইনে ফি না দিলে আবেদন সম্পূর্ণ হবে না। পেমেন্ট ছাড়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাবেন না।
জরুরি পাসপোর্টের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কীভাবে নেওয়া হয়?
পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক মেশিনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হয়। দুই হাতের সব আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়।
পাসপোর্ট করতে কী কী মেডিকেল টেস্ট লাগে?
সাধারণত কোনো মেডিকেল টেস্ট লাগে না। তবে কিছু দেশের ভিসার জন্য আলাদা টেস্ট লাগতে পারে।
জরুরি পাসপোর্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট কীভাবে নিব?
অনলাইনে ফরম পূরণ এবং পেমেন্ট দেওয়ার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে পারবেন। তারিখ নিজে বাছাই করুন।
জরুরি পাসপোর্টে কি সব দেশে যাওয়া যায়?
হ্যাঁ, জরুরি পাসপোর্টেও সব দেশে যাওয়া যায়। এটি সাধারণ পাসপোর্টের মতোই বৈধ।
পাসপোর্ট হারালে জিডি কোথায় করব?
নিকটস্থ থানায় গিয়ে পাসপোর্ট হারানোর জিডি করতে হবে। এই জিডি কপি নতুন পাসপোর্টের জন্য লাগবে।
জরুরি পাসপোর্ট রিজেক্ট হলে কী করব?
আবেদন রিজেক্ট হলে কারণ জানতে অফিসে যোগাযোগ করুন। ভুল সংশোধন করে আবার আবেদন করতে পারবেন।
২০২৫ সালে পাসপোর্ট ফি কি বাড়বে?
২০২৫ সালে এখনো ফি একই আছে। তবে সরকার চাইলে যেকোনো সময় পরিবর্তন করতে পারে। আপডেট জানতে সরকারি সাইট দেখুন।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 🌍






