প্রকৃতির এক অসাধারণ শক্তি হলো আগ্নেয়গিরি। পৃথিবীর বুকে লুকিয়ে থাকা গলিত শিলা যখন বাইরে আসে, তখন তৈরি হয় বিস্ফোরণ। এই ঘটনা মানুষকে ভয় পাওয়ায়, আবার মুগ্ধও করে। আমরা প্রতিদিন এর প্রভাব দেখি না, কিন্তু এটি পৃথিবীর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আজকের এই লেখায় আমরা আগ্নেয়গিরি বা Volcano সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
আগ্নেয়গিরি কি
আগ্নেয়গিরি হলো এমন একটি পর্বত যেখান থেকে গলিত শিলা বের হয়। পৃথিবীর ভেতরে থাকা গরম তরল পদার্থ উপরে উঠে আসে। এই পদার্থকে আমরা ম্যাগমা বলি। যখন এটি বাইরে বের হয়, তখন হয় বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণে লাভা, ছাই এবং গ্যাস বের হয়।
Volcano সাধারণত পাহাড় বা পর্বতের মতো দেখতে হয়। তবে সব Volcano একই রকম নয়। কিছু খুব বড়, কিছু ছোট। কিছু এখনও সক্রিয়, কিছু চিরকালের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। পৃথিবীর অনেক জায়গায় এই পর্বত দেখা যায়। সমুদ্রের নিচেও অনেক Volcano আছে।
আগ্নেয়গিরির উৎপত্তি ও বিবর্তন

আগ্নেয়গিরির জন্ম হয় পৃথিবীর ভূত্বকের গভীর থেকে। পৃথিবীর কেন্দ্র অত্যন্ত গরম। সেখানে শিলা গলে তরল হয়ে যায়। এই গলিত শিলা চাপের কারণে উপরে উঠতে থাকে। যখন এটি ভূপৃষ্ঠের কাছে আসে, তখন ফাটল দিয়ে বের হয়।
লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। প্রতিবার বিস্ফোরণের সময় লাভা জমা হয়। এভাবে ধীরে ধীরে পর্বত তৈরি হয়। কিছু আগ্নেয়গিরি খুব পুরনো, কিছু নতুন। পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আজও নতুন আগ্নেয়গিরি তৈরি হচ্ছে।
মৃত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ
মৃত Volcano হলো যেগুলো আর কখনও সক্রিয় হবে না। এগুলো হাজার হাজার বছর ধরে নিস্তব্ধ। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে এদের ম্যাগমা শেষ হয়ে গেছে।
- আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো একটি মৃত Volcano।
- ভারতের দাক্ষিণাত্যের কিছু পাহাড় মৃত Volcano।
- স্কটল্যান্ডের আর্থার সিট মৃত Volcano বলে ধরা হয়।
- ইকুয়েডরের চিম্বোরাজো অনেক পুরনো মৃত Volcano।
- মিশরের কিছু অংশে মৃত Volcano পাওয়া গেছে।
এসব জায়গা এখন পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। মানুষ এসব পাহাড়ে বেড়াতে যায়। কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই। প্রকৃতি এখন এসব পর্বতকে সবুজে ঢেকে দিয়েছে।
সক্রিয় আগ্নেয়গিরির উদাহরণ
সক্রিয় Volcano যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। এগুলো এখনও জীবন্ত এবং বিপদজনক। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এরকম পর্বত আছে।
- ইতালির মাউন্ট ভিসুভিয়াস খুব বিখ্যাত সক্রিয় Volcano।
- হাওয়াইয়ের কিলাউয়া প্রায়ই লাভা নিঃসরণ করে।
- ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট মেরাপি অত্যন্ত বিপদজনক।
- ফিলিপাইন্সের তাল আগ্নেয়গিরি সাম্প্রতিক বিস্ফোরিত হয়েছে।
- জাপানের মাউন্ট ফুজি একটি সুপ্ত কিন্তু সক্রিয় Volcano।
এসব অঞ্চলের মানুষ সবসময় সতর্ক থাকে। বিজ্ঞানীরা নিয়মিত এগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। যেকোনো বিপদের আগে তারা মানুষকে সতর্ক করে দেন।
আগ্নেয়গিরির লাভা কী
লাভা হলো গলিত শিলা যা Volcano থেকে বের হয়। এটি অত্যন্ত গরম এবং লাল রঙের। মাটির উপর এলে এটি ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়। ঠান্ডা হয়ে গেলে শক্ত পাথরে পরিণত হয়।
লাভার গতি নির্ভর করে এর ঘনত্বের উপর। পাতলা লাভা দ্রুত প্রবাহিত হয়। ঘন লাভা ধীরে চলে। কিছু লাভা কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যেতে পারে। এটি যেখানে যায়, সব কিছু পুড়িয়ে দেয়। গাছপালা, ঘরবাড়ি সব ধ্বংস হয়ে যায়।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাত কিভাবে হয়
আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ হয় ভূগর্ভস্থ চাপের কারণে। পৃথিবীর ভিতরে ম্যাগমা জমা হয়। এই ম্যাগমায় গ্যাস মিশে থাকে। চাপ বাড়তে থাকলে ম্যাগমা উপরে উঠতে শুরু করে।
একসময় চাপ এতটাই বেড়ে যায় যে আগ্নেয়গিরির মুখ খুলে যায়। তখন লাভা, ছাই এবং গ্যাস প্রচণ্ড শক্তিতে বের হয়। কিছু বিস্ফোরণ খুব শান্ত হয়, কিছু অত্যন্ত ভয়ংকর। বিস্ফোরণের ধরন নির্ভর করে ম্যাগমার প্রকৃতির উপর। ঘন ম্যাগমা বিস্ফোরক বিস্ফোরণ তৈরি করে।
Volcano থেকে গ্যাস নির্গমন
Volcano থেকে অনেক ধরনের গ্যাস বের হয়। সবচেয়ে বেশি থাকে জলীয় বাষ্প। এছাড়া কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য গ্যাস বের হয়।
- জলীয় বাষ্প সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে।
- কার্বন ডাই অক্সাইড গাছপালার জন্য দরকারি কিন্তু বেশি মাত্রায় ক্ষতিকর।
- সালফার ডাই অক্সাইড বাতাসে মিশে অ্যাসিড তৈরি করে।
- হাইড্রোজেন সালফাইড একটি বিষাক্ত গ্যাস।
- কার্বন মনোক্সাইড মানুষের জন্য খুব বিপদজনক।
এসব গ্যাস পরিবেশের ক্ষতি করে। মানুষের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কাছাকাছি থাকলে বিপদ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই গ্যাস বাতাসে থাকলে জলবায়ু পরিবর্তন হয়।
কোন Volcano সবচেয়ে বড়
বিশ্বের সবচেয়ে বড় Volcano হলো মাউনা লোয়া। এটি হাওয়াইতে অবস্থিত। সমুদ্র তল থেকে এর উচ্চতা প্রায় দশ হাজার মিটার। তবে এর বেশিরভাগ অংশ পানির নিচে।
| আগ্নেয়গিরির নাম | দেশ | উচ্চতা (মিটার) | অবস্থা |
| মাউনা লোয়া | হাওয়াই | ৪,১৭০ | সক্রিয় |
| মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো | তানজানিয়া | ৫,৮৯৫ | মৃত |
| মাউন্ট এটনা | ইতালি | ৩,৩২৯ | সক্রিয় |
| মাউন্ট ফুজি | জাপান | ৩,৭৭৬ | সুপ্ত |
মাউনা লোয়া এখনও সক্রিয়। এটি মাঝে মাঝে লাভা নিঃসরণ করে। আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্বত। বিজ্ঞানীরা নিয়মিত এটি পর্যবেক্ষণ করেন।
পৃথিবীতে মোট কত Volcano আছে
পৃথিবীতে প্রায় দেড় হাজারের বেশি সক্রিয় Volcano আছে। এর মধ্যে কিছু ভূপৃষ্ঠে, কিছু সমুদ্রের নিচে। প্রতি বছর প্রায় পঞ্চাশটি থেকে ষাটটি বিস্ফোরিত হয়।
মৃত এবং সুপ্ত আগ্নেয়গিরির সংখ্যা আরও অনেক বেশি। হাজার হাজার বছর আগে যেগুলো সক্রিয় ছিল, সেগুলো এখন নিস্তব্ধ। কিছু Volcano আমরা এখনও আবিষ্কার করিনি। সমুদ্রের গভীরে অনেক লুকিয়ে আছে। বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন খুঁজে পাচ্ছেন।
Volcano এর ধূলিকণা ক্ষতি
Volcano এর ছাই অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিস্ফোরণের সময় এটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছাই কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে যেতে পারে। মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট হয়।
- ছাই ফসলের ক্ষতি করে এবং মাটি ঢেকে ফেলে।
- বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ছাইয়ের কারণে।
- ঘরের ছাদ ভারী ছাইয়ের চাপে ভেঙে পড়তে পারে।
- পানির উৎস দূষিত হয়ে যায়।
- চোখে জ্বালা এবং ত্বকে সমস্যা তৈরি হয়।
দীর্ঘদিন ছাইয়ের প্রভাবে থাকলে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ে। পশুপাখিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষকরা তাদের ফসল হারায়। পুরো এলাকা ধূসর হয়ে যায়।
Volcano এর কারণে ভূমিকম্প
Volcano এবং ভূমিকম্প পরস্পর সম্পর্কিত। ম্যাগমা যখন ভূত্বকের নিচে চলাচল করে, তখন কম্পন সৃষ্টি হয়। এই কম্পন ভূমিকম্প হিসেবে অনুভূত হয়।
বিস্ফোরণের আগে প্রায়ই ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়। বিজ্ঞানীরা এই কম্পন পর্যবেক্ষণ করে বিস্ফোরণের আভাস পান। কিছু ভূমিকম্প এত ছোট যে মানুষ টের পায় না। কিন্তু যন্ত্র দিয়ে ধরা পড়ে। বড় বিস্ফোরণের সময় শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে। এতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
Volcano এর প্রকারভেদ
Volcano বিভিন্ন ধরনের হয়। এদের আকার এবং বিস্ফোরণের ধরন ভিন্ন। মূলত তিন ধরনের আগ্নেয়গিরি দেখা যায়।
প্রথমত, শিল্ড Volcano যা খুব চওড়া এবং কম উঁচু। এদের লাভা পাতলা এবং দ্রুত প্রবাহিত হয়। হাওয়াইয়ের Volcano এই ধরনের। দ্বিতীয়ত, কোণাকার Volcano যা সুন্দর শঙ্কু আকৃতির। এদের বিস্ফোরণ বিস্ফোরক প্রকৃতির। মাউন্ট ফুজি এর উদাহরণ। তৃতীয়ত, মিশ্র Volcano যা দুই ধরনের বৈশিষ্ট্য মিলিতভাবে দেখায়। মাউন্ট ভিসুভিয়াস এই শ্রেণীর।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতে কি গ্যাস বের হয়
আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে অনেক ধরনের গ্যাস নির্গত হয়। এসব গ্যাস পরিবেশ এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর। জলীয় বাষ্প সবচেয়ে বেশি থাকে, প্রায় নব্বই শতাংশ।
- কার্বন ডাই অক্সাইড প্রায় দশ শতাংশ।
- সালফার ডাই অক্সাইড যা অ্যাসিড বৃষ্টি তৈরি করে।
- হাইড্রোজেন সালফাইড দুর্গন্ধযুক্ত এবং বিষাক্ত।
- কার্বন মনোক্সাইড অক্সিজেনের অভাব সৃষ্টি করে।
এই গ্যাসগুলো বাতাসে মিশে পরিবেশ দূষিত করে। দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হতে পারে জলবায়ুতে। কিছু গ্যাস সূর্যের আলো আটকে দেয়। ফলে তাপমাত্রা কমে যেতে পারে।
আগ্নেয়গিরির কারণে জলবায়ু পরিবর্তন
বড় আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ জলবায়ুকে প্রভাবিত করতে পারে। ছাই এবং গ্যাস বাতাসের উপরের স্তরে পৌঁছায়। এটি সূর্যের আলো আটকে দেয়। ফলে পৃথিবী ঠান্ডা হয়ে যায়।
ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেছে। ১৮১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার তাম্বোরা বিস্ফোরিত হলে পরের বছর গ্রীষ্ম ছিল না। তাপমাত্রা এত কমে গিয়েছিল যে ফসল নষ্ট হয়েছিল। মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগেছিল। কিছু বিস্ফোরণ এত বড় যে বছরের পর বছর প্রভাব থাকে। বিজ্ঞানীরা এখন এসব পর্যবেক্ষণ করেন।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতের লক্ষণ
বিস্ফোরণের আগে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই লক্ষণগুলো খুঁজে বের করেন। তারা যন্ত্র দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।
| লক্ষণ | বিবরণ | সময়কাল |
| ছোট ভূমিকম্প | ম্যাগমা চলাচলের কারণে | কয়েক সপ্তাহ |
| পর্বতের আকৃতি পরিবর্তন | ম্যাগমা জমা হলে স্ফীতি হয় | কয়েক মাস |
| গ্যাস নির্গমন বৃদ্ধি | সালফার ডাই অক্সাইড বেশি বের হয় | কয়েক দিন |
| পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি | ভূগর্ভস্থ পানি গরম হয় | কয়েক সপ্তাহ |
এই লক্ষণগুলো দেখে বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তা দেন। মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়। আগাম সতর্কতা জীবন বাঁচাতে পারে। প্রযুক্তি উন্নত হওয়ায় এখন আগে থেকেই জানা যায়।
আগ্নেয়গিরির ছাই কি
আগ্নেয়গিরির ছাই হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরের কণা। বিস্ফোরণের সময় লাভা বাতাসে ছিটকে যায়। এটি দ্রুত ঠান্ডা হয়ে সূক্ষ্ম গুঁড়ায় পরিণত হয়। এই গুঁড়াই হলো ছাই।
ছাই খুবই হালকা এবং দূরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাতাসের সাথে উড়ে যায়। কিছু ছাই এত সূক্ষ্ম যে শ্বাসের সাথে ফুসফুসে ঢোকে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। দীর্ঘদিন ছাইয়ের মধ্যে থাকলে ফুসফুসের রোগ হতে পারে। কিন্তু মাটিতে মিশে গেলে এটি উর্বর করে তোলে।
আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা কি
ম্যাগমা হলো পৃথিবীর ভিতরে থাকা গলিত শিলা। এটি অত্যন্ত গরম, তাপমাত্রা প্রায় সাতশো থেকে তেরশো ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৃথিবীর কেন্দ্রের চাপ এবং তাপে শিলা গলে যায়।
ম্যাগমা বিভিন্ন খনিজ দিয়ে তৈরি। এতে সিলিকা, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। ম্যাগমার প্রকৃতি নির্ভর করে এসব উপাদানের পরিমাণের উপর। ঘন ম্যাগমা ধীরে চলে এবং বিস্ফোরক। পাতলা ম্যাগমা দ্রুত প্রবাহিত হয়। যখন ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে আসে, তখন আমরা একে লাভা বলি।
আগ্নেয়গিরির ছবি
আগ্নেয়গিরির ছবি দেখতে অসাধারণ সুন্দর। লাল রঙের লাভা প্রবাহিত হচ্ছে, ধোঁয়া উঠছে আকাশে। রাতের বেলা লাভার আলো আরও উজ্জ্বল দেখায়। ফটোগ্রাফাররা এই দৃশ্য ধরতে ঝুঁকি নেন।
- হাওয়াইয়ের লাভা প্রবাহের ছবি খুব জনপ্রিয়।
- ইতালির মাউন্ট এটনার রাতের বিস্ফোরণ দর্শনীয়।
- আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরি বরফের মধ্যে সুন্দর দেখায়।
- জাপানের মাউন্ট ফুজির ছবি শান্ত এবং মনোমুগ্ধকর।
স্যাটেলাইট থেকেও ছবি তোলা হয়। এসব ছবি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সাহায্য করে। মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব ছবি শেয়ার করে। আগ্নেয়গিরির সৌন্দর্য দেখে অনেকে মুগ্ধ হন।
Volcano কোথায় বেশি দেখা যায়
Volcano নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বেশি দেখা যায়। প্যাসিফিক মহাসাগরের চারপাশে সবচেয়ে বেশি। একে রিং অফ ফায়ার বলা হয়। এই অঞ্চলে পৃথিবীর শতকরা পঁচাত্তর ভাগ Volcano আছে।
ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়গিরি রয়েছে। প্রায় একশত সত্তরটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আছে। ফিলিপাইন্স, জাপান, আমেরিকাতেও অনেক আছে। দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালায় অনেক সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আছে। আইসল্যান্ড এবং ইতালিতেও রয়েছে। এসব জায়গায় প্লেট টেকটনিক সক্রিয় বলে আগ্নেয়গিরি বেশি।
আগ্নেয়গিরির আগমন বার্তা
আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ হঠাৎ হয় না। আগে থেকেই কিছু সংকেত পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা এই সংকেত ধরতে পারেন। তারা বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার করেন।
সিসমোমিটার দিয়ে ভূমিকম্প মাপা হয়। জিপিএস দিয়ে পর্বতের উচ্চতা পরিবর্তন দেখা যায়। গ্যাস সেন্সর গ্যাসের পরিমাণ মাপে। তাপমাত্রা সেন্সর গরমের পরিবর্তন ধরে। স্যাটেলাইট ছবি তুলে পরিবর্তন দেখায়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। আগাম জানলে মানুষ নিরাপদে সরে যেতে পারে।
Volcano ও প্লেট টেকটনিক
Volcano এবং প্লেট টেকটনিক গভীরভাবে সম্পর্কিত। পৃথিবীর ভূত্বক কয়েকটি প্লেটে বিভক্ত। এই প্লেটগুলো ধীরে ধীরে চলাচল করে। যেখানে দুটি প্লেট মিলিত হয়, সেখানে Volcano তৈরি হয়।
| প্লেটের ধরন | আগ্নেয়গিরির অবস্থান | উদাহরণ |
| সংঘর্ষ সীমানা | দুই প্লেট সংঘর্ষে | আন্দিজ পর্বতমালা |
| বিচ্যুতি সীমানা | দুই প্লেট আলাদা হলে | আইসল্যান্ড |
| হট স্পট | প্লেটের মাঝে | হাওয়াই |
একটি প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যায়। তখন সেই শিলা গলে ম্যাগমা তৈরি করে। এই ম্যাগমা উপরে উঠে Volcano সৃষ্টি করে। রিং অফ ফায়ার এভাবেই তৈরি হয়েছে।
আগ্নেয়গিরির ক্ষতি ও প্রভাব
আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। প্রাণহানি হয়, সম্পত্তি নষ্ট হয়। লাভা সব কিছু পুড়িয়ে ফেলে। ছাই ফসল নষ্ট করে।
মানুষ ঘরবাড়ি হারায়। অনেকে আহত হয়, কেউ কেউ মারা যায়। শহর এবং গ্রাম ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। পরিবেশেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে। পানি দূষিত হয়। বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস থাকে। পশুপাখিও মারা যায়। তবে লাভা শুকিয়ে গেলে সেই মাটি উর্বর হয়। কয়েক বছর পর সেখানে আবার চাষাবাদ হয়।
আগ্নেয়গিরির বিপদ ও সতর্কতা
আগ্নেয়গিরির কাছে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে হয়। বিপদের সময় কী করতে হবে জানা দরকার। সরকার এবং বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তা দেন।
- সতর্কবার্তা শুনলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে হবে।
- জরুরি সরঞ্জাম সব সময় প্রস্তুত রাখতে হবে।
- মাস্ক ব্যবহার করতে হবে ছাই থেকে বাঁচতে।
- নিরাপদ পথ আগে থেকে জেনে রাখতে হবে।
- পরিবারের সবাই মিলে পরিকল্পনা করতে হবে।
স্কুলে বাচ্চাদের শেখানো হয় কী করতে হবে। মহড়া দেওয়া হয় নিয়মিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো রাখতে হবে। জরুরি নম্বর মনে রাখা উচিত। সতর্কতা অবলম্বন করলে জীবন বাঁচানো সম্ভব।
কোন দেশে Volcano বেশি
কিছু দেশে আগ্নেয়গিরির সংখ্যা অনেক বেশি। এসব দেশ প্লেট টেকটনিক সীমানায় অবস্থিত। ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে বেশি Volcano আছে।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় একশত সত্তরটি সক্রিয় Volcano রয়েছে। জাপানে প্রায় একশত দশটি সক্রিয় আছে। আমেরিকায় প্রায় একশত ছিয়াশিটি আছে। ফিলিপাইন্সে প্রায় পঞ্চাশটি সক্রিয় আছে। চিলি এবং রাশিয়াতেও অনেক আছে। এসব দেশের মানুষ আগ্নেয়গিরির সাথে বসবাস করতে অভ্যস্ত।
আগ্নেয়গিরির সংজ্ঞা
আগ্নেয়গিরি হলো ভূপৃষ্ঠের একটি খোলা জায়গা। এখান দিয়ে ভূগর্ভস্থ গলিত শিলা বের হয়। এই শিলাকে ম্যাগমা বলা হয়। বাইরে এলে তাকে লাভা বলে।
সাধারণত আগ্নেয়গিরি পর্বতের মতো দেখতে হয়। তবে সব আগ্নেয়গিরি পর্বত নয়। কিছু সমতল ভূমিতেও থাকতে পারে। মূল বিষয় হলো ভূগর্ভ থেকে পদার্থ নির্গমন। আগ্নেয়গিরিতে একটি কেন্দ্রীয় গর্ত থাকে যাকে ক্রেটার বলে। এই ক্রেটার দিয়ে লাভা এবং গ্যাস বের হয়। পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক গঠনে আগ্নেয়গিরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতের ধরণ
আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ বিভিন্ন ধরনের হয়। কিছু শান্ত, কিছু অত্যন্ত বিস্ফোরক। ম্যাগমার প্রকৃতির উপর নির্ভর করে বিস্ফোরণের ধরন।
হাওয়াইয়ান বিস্ফোরণ খুব শান্ত হয়। লাভা ধীরে ধীরে প্রবাহিত হয়। স্ট্রম্বোলিয়ান বিস্ফোরণে মাঝারি শক্তি থাকে। লাভা ফোয়ারার মতো উপরে ওঠে। ভালকানিয়ান বিস্ফোরণ আরও শক্তিশালী। ঘন ম্যাগমা বিস্ফোরক বিস্ফোরণ তৈরি করে। প্লিনিয়ান বিস্ফোরণ সবচেয়ে ভয়ংকর। এতে ছাই এবং গ্যাস অনেক উপরে যায়। আকাশ অন্ধকার হয়ে যায়।
আগ্নেয়গিরির লাভা কত তাপমাত্রা
লাভার তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি। এটি সাতশো থেকে তেরশো ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের লাভার তাপমাত্রা ভিন্ন।
| লাভার ধরন | তাপমাত্রা (°C) | রঙ | প্রকৃতি |
| বেসল্টিক | ১০০০-১২০০ | উজ্জ্বল লাল | পাতলা, দ্রুত |
| আন্ডেসাইট | ৮০০-১০০০ | গাঢ় লাল | মাঝারি |
| রাইওলাইট | ৭০০-৮৫০ | কমলা-লাল | ঘন, ধীর |
লাভা যত গরম, তত উজ্জ্বল দেখায়। ঠান্ডা হতে শুরু করলে রঙ কালো হয়ে যায়। তাপমাত্রা এত বেশি যে কাছে গেলে পুড়ে যাবে। কিছু লাভা এত গরম যে ইস্পাত গলিয়ে ফেলতে পারে।
Volcano বিস্ফোরণের কারণ
Volcano বিস্ফোরণ হয় বিভিন্ন কারণে। মূল কারণ হলো ভূগর্ভস্থ চাপ। ম্যাগমায় গ্যাস মিশে থাকে। এই গ্যাসের চাপ বাড়তে থাকে।
প্লেট টেকটনিকের কারণে ম্যাগমা তৈরি হয়। একটি প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে গেলে শিলা গলে যায়। এই গলিত শিলা হালকা হয়ে উপরে ওঠে। একটি চেম্বারে জমা হতে থাকে। যখন চেম্বার পূর্ণ হয়, চাপ বাড়ে। একসময় ভূত্বক ভেঙে যায়। তখন বিস্ফোরণ হয়। গ্যাসের পরিমাণ বেশি হলে বিস্ফোরণ আরও শক্তিশালী হয়।
আগ্নেয়গিরির গঠন প্রক্রিয়া

Volcano তৈরি হতে হাজার হাজার বছর লাগে। এটি একটি ধীর প্রক্রিয়া। প্রতিবার বিস্ফোরণে নতুন স্তর যোগ হয়।
প্রথমে ভূগর্ভে ম্যাগমা জমা হয়। চাপ বাড়লে এটি ফাটল খুঁজে বের হয়। প্রথম বিস্ফোরণে লাভা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ঠান্ডা হয়ে শক্ত হয়ে যায়। পরের বিস্ফোরণে আরও লাভা যোগ হয়। এভাবে স্তরের পর স্তর জমা হয়। ধীরে ধীরে পর্বত উঁচু হতে থাকে। কিছু আগ্নেয়গিরি লক্ষ বছরে তৈরি হয়েছে।
সক্রিয় আগ্নেয়গিরির তালিকা
বিশ্বে অনেক সক্রিয় Volcano আছে। এগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিজ্ঞানীরা এদের উপর নজর রাখেন।
- কিলাউয়া, হাওয়াই – প্রায় সব সময় সক্রিয়
- মাউন্ট এটনা, ইতালি – ইউরোপের সবচেয়ে সক্রিয়
- মাউন্ট নিরাগোঙ্গো, কঙ্গো – লাভা হ্রদ আছে
- মাউন্ট ইয়াসুর, ভানুয়াতু – নিয়মিত ছোট বিস্ফোরণ
- সাকুরাজিমা, জাপান – প্রায় প্রতিদিন সক্রিয়
এসব আগ্নেয়গিরির কাছে মানুষ বসবাস করে। তারা বিপদ জানে কিন্তু সেখানেই থাকে। কারণ মাটি উর্বর এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকর্ষণীয়। বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তা দিলে তারা সরে যায়।
উপসংহার
Volcano প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। এটি একই সাথে ধ্বংসকারী এবং সৃজনশীল। লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীকে রূপ দিয়েছে Volcano। নতুন ভূমি তৈরি করেছে, মাটি উর্বর করেছে। কিন্তু বিস্ফোরণে ক্ষতিও করেছে অনেক।
আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আমরা Volcano সম্পর্কে অনেক জানি। বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তা দিতে পারেন। মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে। তবে প্রকৃতির শক্তি অনেক বড়। আমরা শুধু সতর্ক হতে পারি, নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আগ্নেয়গিরির কাছে বসবাসকারীরা এই বাস্তবতার সাথেই বেঁচে আছে। তারা প্রকৃতিকে সম্মান করে, সতর্ক থাকে এবং জীবন চালিয়ে যায়।
Volcano আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী জীবন্ত। এর নিচে প্রচণ্ড শক্তি লুকিয়ে আছে। আমরা এই গ্রহের ছোট্ট অংশ মাত্র। প্রকৃতির শক্তির কাছে আমাদের বিনয়ী হওয়া উচিত। একই সাথে, আমাদের জ্ঞান এবং প্রযুক্তি দিয়ে নিজেদের রক্ষা করতে হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQs)
Volcano কীভাবে সনাক্ত করা যায়?
Volcano সাধারণত পর্বত বা পাহাড়ের মতো দেখতে। উপরে একটি গর্ত বা ক্রেটার থাকে। বিজ্ঞানীরা ভূতাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে সনাক্ত করেন। ম্যাগমা চেম্বারের উপস্থিতি যন্ত্র দিয়ে ধরা পড়ে।
বাংলাদেশে কি কোনো Volcano আছে?
বাংলাদেশে কোনো সক্রিয় Volcano নেই। এই অঞ্চল প্লেট টেকটনিক সীমানা থেকে দূরে। তাই এখানে আগ্নেয়গিরির ঝুঁকি নেই। তবে ভূমিকম্প হতে পারে।
আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ কতদিন স্থায়ী হয়?
বিস্ফোরণের সময়কাল ভিন্ন ভিন্ন হয়। কিছু বিস্ফোরণ কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কিছু কয়েক দিন বা মাস ধরে চলে। হাওয়াইয়ের কিলাউয়া বছরের পর বছর লাভা নিঃসরণ করেছে।
আগ্নেয়গিরির ছাই কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
হ্যাঁ, ছাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শ্বাসের সাথে ফুসফুসে ঢুকলে শ্বাসকষ্ট হয়। চোখে জ্বালা করে। দীর্ঘদিন ছাইয়ের মধ্যে থাকলে ফুসফুসের রোগ হতে পারে। মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
লাভা কি পানিতে গেলে বিস্ফোরণ হয়?
হ্যাঁ, গরম লাভা পানিতে পড়লে বিস্ফোরণ হতে পারে। পানি দ্রুত বাষ্প হয়ে যায়। এতে চাপ তৈরি হয়। ছোট বিস্ফোরণ এবং ভাপের মেঘ দেখা যায়। সমুদ্রে লাভা প্রবেশ করলে এই ঘটনা ঘটে।
আগ্নেয়গিরির মাটি কেন উর্বর হয়?
লাভায় অনেক খনিজ থাকে। এই খনিজগুলো উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য দরকারি। লাভা ভেঙে মাটিতে মিশে যায়। এতে মাটি উর্বর হয়। তাই আগ্নেয়গিরির আশেপাশে কৃষিকাজ ভালো হয়।
কোন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল?
ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল ১৮১৫ সালে তাম্বোরা। ইন্দোনেশিয়ায় এই বিস্ফোরণ হয়েছিল। প্রায় সত্তর হাজার মানুষ মারা গেছিল। পরের বছর সারা বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন হয়েছিল।
আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ কি ভূমিকম্প সৃষ্টি করে?
হ্যাঁ, বিস্ফোরণের সময় ভূমিকম্প হতে পারে। ম্যাগমার চলাচল এবং বিস্ফোরণের শক্তি কম্পন তৈরি করে। তবে এই ভূমিকম্প সাধারণত স্থানীয় এবং বড় নয়। বিস্ফোরণের আগেও ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়।
সমুদ্রের নিচে কি Volcano আছে?
হ্যাঁ, সমুদ্রের নিচে অনেক Volcano আছে। প্রকৃতপক্ষে, বেশিরভাগ Volcano পানির নিচে। সমুদ্রের মাঝামাঝি পর্বতমালায় অনেক আছে। এগুলো নতুন সমুদ্রতল তৈরি করে।
আগ্নেয়গিরির কাছে বাস করা কি নিরাপদ?
আগ্নেয়গিরির কাছে বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে লক্ষ লক্ষ মানুষ সেখানে বসবাস করে। তারা সতর্কতা অবলম্বন করে। বিজ্ঞানীরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন। সতর্কবার্তা পেলে মানুষ সরে যায়। সঠিক প্রস্তুতি নিলে নিরাপদ থাকা সম্ভব।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 📲






