চিকেন বিরিয়ানি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার। প্রতিটি বাড়িতে বিশেষ দিনে এই খাবার রান্না হয়। অনেকে মনে করেন বিরিয়ানি রান্না খুব কঠিন। কিন্তু সহজভাবে চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি জানলে আপনিও ঘরে বানাতে পারবেন। আজকের এই লেখায় আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া। ধাপে ধাপে শিখবেন কীভাবে সুস্বাদু বিরিয়ানি তৈরি করবেন। রেস্তোরাঁর মতো স্বাদ পাবেন নিজের রান্নাঘরে।
চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি উপকরণ লিস্ট

বিরিয়ানি রান্নার জন্য সঠিক উপকরণ খুবই জরুরি। ভালো মানের চাল ও মশলা ব্যবহার করতে হবে। নিচে দেওয়া লিস্ট অনুযায়ী সব কিছু প্রস্তুত রাখুন। তাহলে রান্না করতে সুবিধা হবে। সঠিক পরিমাণ মশলা স্বাদ বাড়ায়। খুব বেশি বা কম মশলা ব্যবহার করবেন না।
চিকেন বিরিয়ানির জন্য মুরগি ১ কেজি লাগবে। ভালোভাবে ধুয়ে টুকরো করে নিন। বাসমতী চাল ৫০০ গ্রাম নিতে হবে। পেঁয়াজ কুচি ৩ কাপ প্রয়োজন। টমেটো মাঝারি সাইজের ২টি কাটুন। দই আধা কাপ নিন টক দই ভালো। আদা-বাটা ২ টেবিল চামচ চাই। রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ লাগবে। সবুজ মরিচ ৪-৫টি চিরে নিন। ধনেপাতা ও পুদিনা পাতা আধা কাপ করে কুচি করুন। লবণ স্বাদমতো দিতে হবে।
মশলার জন্য তেজপাতা ২টি নিন। দারচিনি ২ ইঞ্চি লম্বা ১টি লাগবে। এলাচ ৪-৫টি প্রয়োজন। লবঙ্গ ৪-৫টি নিতে হবে। জিরা ১ চা চামচ দিন। গরম মশলা গুঁড়া ১ চা চামচ চাই। হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ লাগবে। মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ নিন। ঘি ৩ টেবিল চামচ প্রয়োজন। রান্নার তেল আধা কাপ লাগবে। জাফরান এক চিমটি নিন দুধে ভিজিয়ে। খাবার রং হলুদ অল্প পরিমাণ চাই। এই সব উপকরণ দিয়ে পারফেক্ট বিরিয়ানি তৈরি হবে।
ঘরোয়া চিকেন বিরিয়ানি রান্নার পদ্ধতি
ঘরোয়া চিকেন বিরিয়ানি রান্নার পদ্ধতি খুবই সহজ। প্রথমে চাল ভিজিয়ে রাখুন আধা ঘণ্টা। পানিতে লবণ দিয়ে চাল সিদ্ধ করুন ৭০ শতাংশ। চাল বেশি সিদ্ধ করবেন না নরম হয়ে যাবে। একটা বড় হাঁড়ি বা পাত্র নিন। তেল গরম করে পেঁয়াজ ভাজুন গোলাপি রং হওয়া পর্যন্ত।
পেঁয়াজ ভাজা হলে আদা-রসুন বাটা দিন। একটু নেড়ে মুরগি দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে ৫ মিনিট ভাজুন। তারপর দই, মশলা, লবণ দিয়ে মিশিয়ে নিন। ঢাকনা দিয়ে ১৫ মিনিট রান্না করুন। মুরগি নরম হয়ে গেলে টমেটো দিন। সবুজ মরিচ ও ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন। এবার সিদ্ধ চাল সাবধানে উপরে দিন। ঘি ও রং মিশিয়ে চালের উপর ছড়িয়ে দিন। পুদিনা পাতা ছিটিয়ে ঢাকনা বন্ধ করুন।
- হাঁড়ির ঢাকনা ময়দার লেই দিয়ে আটকে দিন
- একদম হালকা আঁচে ২৫-৩০ মিনিট দম দিন
- মাঝে আঁচ বাড়াবেন না নিচে পুড়ে যাবে
- দম শেষে ৫ মিনিট রেখে তারপর খুলুন
- হালকা করে মিশিয়ে পরিবেশন করুন গরম গরম
মুরগির বিরিয়ানি রেসিপি বাংলায়
মুরগির বিরিয়ানি রেসিপি বাংলায় অনেকে খোঁজেন। কারণ বাংলা ভাষায় বুঝতে সহজ হয়। আমাদের দেশে বিরিয়ানি প্রতিটি অনুষ্ঠানের প্রধান খাবার। বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ সব জায়গায় বিরিয়ানি থাকে। রেস্তোরাঁর বিরিয়ানি সবার পছন্দ কিন্তু দামও বেশি। ঘরে বানালে খরচ কম পড়ে এবং স্বাস্থ্যকরও বটে।
বাংলাদেশী স্টাইলে বিরিয়ানি তৈরি করতে কিছু টিপস মানুন। প্রথমে বাসমতী চাল ব্যবহার করুন অন্য চাল দিয়ে স্বাদ হয় না। দ্বিতীয়ত পর্যাপ্ত পেঁয়াজ ভাজুন সোনালি করে। তৃতীয়ত দই ভালো মানের ব্যবহার করুন। চতুর্থত জাফরান বা কেশর দিলে রং ও ঘ্রাণ বাড়ে। পঞ্চমত দম দেওয়ার সময় খুব ধৈর্য ধরুন।
বাংলা রেসিপিতে আলু দেওয়ার রীতি আছে। অনেকে সিদ্ধ ডিম দেন বিরিয়ানিতে। কেউ কেউ আলু ভাজা দিয়ে পরিবেশন করেন। এগুলো আপনার পছন্দমতো যোগ করতে পারেন। তবে মূল রেসিপি একই থাকবে। মশলার ভারসাম্য ঠিক রাখুন বেশি ঝাল হলে খেতে কষ্ট হয়। মিষ্টি স্বাদ চাইলে এক চামচ চিনি দিতে পারেন। বিরিয়ানির স্বাদ নির্ভর করে রান্নার ধৈর্যের উপর।
সহজ চিকেন বিরিয়ানি রান্না টিপস
সহজ চিকেন বিরিয়ানি রান্না টিপস জানা থাকলে ভুল হয় না। প্রথম টিপস হলো চাল ভালোভাবে ধুয়ে নিন। দ্বিতীয় টিপস পেঁয়াজ বেশি ভাজবেন না পুড়ে যাবে। তৃতীয় টিপস মুরগি মেরিনেট করে রাখুন আধা ঘণ্টা। চতুর্থ টিপস দম দেওয়ার সময় আঁচ একদম কম রাখুন। পঞ্চম টিপস জাফরান না থাকলে হলুদ রং ব্যবহার করুন।
মশলা বাটা ব্যবহার করলে স্বাদ বেশি হয়। গুঁড়া মশলা দিয়েও ভালো বিরিয়ানি হয়। তবে তাজা মশলা সুগন্ধ বাড়ায়। ঘি ব্যবহার অবশ্যই করুন তেলে সেই স্বাদ আসে না। দুধে জাফরান ভিজিয়ে দিলে রং উজ্জ্বল হয়। বিরিয়ানি তৈরিতে সময় দিন তাড়াহুড়া করবেন না। ধৈর্য ধরে রান্না করলেই পারফেক্ট স্বাদ পাবেন।
- তেল ও ঘি সমান পরিমাণে মিশিয়ে নিন
- চাল সিদ্ধ করার সময় বেশি নাড়বেন না ভেঙে যাবে
- টমেটো দিলে বিরিয়ানি রসালো হয়
- পুদিনা পাতা বেশি দিলে ঘ্রাণ চমৎকার হয়
- বিরিয়ানি পরিবেশনের আগে হালকাভাবে মেশান
বিয়ের বিরিয়ানি স্টাইল রেসিপি
বিয়ের বিরিয়ানি স্টাইল রেসিপি একটু আলাদা হয়। বিয়েতে বিরিয়ানি অনেক বেশি পরিমাণে রান্না হয়। স্বাদও একটু বেশি ঝাঁঝালো থাকে। রং উজ্জ্বল হলুদ বা লাল হয় খাবার রং দিয়ে। আলু ভাজা ও সিদ্ধ ডিম অবশ্যই থাকে। সাথে সালাদ, বোরহানি, রায়তা পরিবেশন করা হয়।
বিয়ের বিরিয়ানিতে মশলা একটু বেশি দেওয়া হয়। কারণ অনেক মানুষের পছন্দ আলাদা হয়। ঝাল বেশি দিলে সবাই খেতে পারে না। তাই মাঝারি ঝাল রাখতে হয়। বিরিয়ানির চাল একটু শক্ত রাখা হয় দাওয়াতে। নরম চাল পরিবেশন করতে অসুবিধা হয়। মশলার ঘ্রাণ দূর থেকেই অনুভব করা যায়।
বিয়ের বিরিয়ানি তৈরিতে অনেক সময় লাগে। প্রথমে বিশাল পরিমাণ পেঁয়াজ কাটা হয়। তারপর মুরগি পরিষ্কার করে টুকরো করা হয়। মশলা বাটা ও অন্যান্য উপকরণ প্রস্তুত করা হয়। বড় হাঁড়িতে একসাথে রান্না করা হয় বিরিয়ানি। দম দেওয়ার সময় কয়লা জ্বালিয়ে ধোঁয়া দেওয়া হয়। এতে স্পেশাল ধোঁয়া গন্ধ আসে বিরিয়ানিতে। এই পদ্ধতিকে বলে কাঠি বিরিয়ানি স্টাইল।
বাসায় চিকেন বিরিয়ানি বানানোর উপায়
বাসায় চিকেন বিরিয়ানি বানানোর উপায় খুবই সহজ। প্রথমে সব উপকরণ একসাথে রেডি করুন। চাল আলাদা ভিজিয়ে রাখুন পানিতে। মুরগি ধুয়ে মেরিনেট করুন দই ও মশলা দিয়ে। পেঁয়াজ সরু করে কেটে নিন ভাজার জন্য। সব কিছু প্রস্তুত থাকলে রান্না দ্রুত হয়।
একটা ভারী তলার হাঁড়ি বা ডেকচি নিন। তেল গরম করে পেঁয়াজ দিয়ে দিন। পেঁয়াজ গোলাপি হলে মশলা দিন ভাজতে। সুগন্ধ বের হলে মেরিনেট করা মুরগি দিন। ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। মুরগি সিদ্ধ হলে সিদ্ধ চাল দিয়ে স্তর করুন। উপরে ঘি, রং, পুদিনা দিয়ে দম দিন। এভাবে ঘরে বসে রেস্তোরাঁর মতো বিরিয়ানি বানাতে পারবেন।
- বাসায় বিরিয়ানি বানাতে ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগে
- ছোট পরিবারের জন্য ছোট হাঁড়ি ব্যবহার করুন
- প্রেসার কুকারেও বিরিয়ানি করা যায় দ্রুত
- গ্যাসের আঁচ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন ভালোভাবে
- বিরিয়ানি বানানোর আগে ইউটিউবে ভিডিও দেখে নিন
চিকেন বিরিয়ানি রান্নার ধাপ
চিকেন বিরিয়ানি রান্নার ধাপ ঠিকমতো মানলে সফল হবেন। প্রথম ধাপে চাল ভিজিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। দ্বিতীয় ধাপে মুরগি পরিষ্কার করে মেরিনেট করুন। তৃতীয় ধাপে পেঁয়াজ কেটে ভাজুন তেলে। চতুর্থ ধাপে মশলা দিয়ে মুরগি রান্না করুন। পঞ্চম ধাপে চাল সিদ্ধ করুন ৭০ শতাংশ। ষষ্ঠ ধাপে চাল ও মুরগি লেয়ার করুন হাঁড়িতে। সপ্তম ধাপে দম দিন ২৫ মিনিট। অষ্টম ধাপে ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন।
প্রতিটি ধাপ সাবধানে করতে হবে ভুল হলে স্বাদ নষ্ট হয়। চাল বেশি সিদ্ধ হলে নরম হয়ে যায়। মুরগি কম সিদ্ধ হলে কাঁচা গন্ধ থাকে। পেঁয়াজ পুড়ে গেলে তেতো স্বাদ আসে। দম দেওয়ার সময় বেশি আঁচ দিলে নিচে পুড়ে যায়। প্রতিটি ধাপে সময় ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ জরুরি। ধৈর্য ধরে রান্না করলেই পারফেক্ট বিরিয়ানি পাবেন।
| ধাপ | কাজ | সময় |
| ১ম ধাপ | চাল ভিজানো | ৩০ মিনিট |
| ২য় ধাপ | মুরগি মেরিনেট | ৩০-৬০ মিনিট |
| ৩য় ধাপ | পেঁয়াজ ভাজা | ১০-১৫ মিনিট |
| ৪র্থ ধাপ | মুরগি রান্না | ২০-২৫ মিনিট |
| ৫ম ধাপ | চাল সিদ্ধ | ১০ মিনিট |
| ৬ষ্ঠ ধাপ | লেয়ার করা | ৫ মিনিট |
| ৭ম ধাপ | দম দেওয়া | ২৫-৩০ মিনিট |
| ৮ম ধাপ | পরিবেশন | ৫ মিনিট |
বিরিয়ানি মশলা তৈরির পদ্ধতি
বিরিয়ানি মশলা তৈরির পদ্ধতি জানা থাকলে ভালো স্বাদ পাবেন। তাজা মশলা শুকনো খোলায় ভেজে নিন। ঠান্ডা হলে মিক্সিতে গুঁড়া করুন। এই মশলা বাজারের মশলা থেকে অনেক ভালো। নিজে তৈরি মশলায় ভেজাল থাকে না। বিশুদ্ধ মশলার ঘ্রাণ আলাদা হয়।
বিরিয়ানির জন্য বিশেষ গরম মশলা বানান। জিরা, ধনে, গোলমরিচ, এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ নিন। সব একসাথে শুকনো ভাজুন হালকা আঁচে। ঠান্ডা করে ভালোভাবে গুঁড়া করুন। এই মশলা এয়ারটাইট বক্সে রাখুন। প্রয়োজন মতো বিরিয়ানিতে ব্যবহার করুন। এই ঘরোয়া মশলা বিরিয়ানির স্বাদ দ্বিগুণ করে দেয়।
- মশলা ভাজার সময় খেয়াল রাখুন না পুড়ে যায়
- তেজপাতা বেশি দিলে তিক্ত স্বাদ আসে
- জায়ফল ও জাইত্রি একটু দিলে ঘ্রাণ বাড়ে
- মশলা গুঁড়া করার আগে ঠান্ডা করে নিন
- মশলা সংরক্ষণ করুন শুকনো ও ঠান্ডা জায়গায়
পারফেক্ট বিরিয়ানির জন্য টিপস
পারফেক্ট বিরিয়ানির জন্য টিপস অনেক আছে। প্রথমত উপকরণ ভালো মানের কিনুন। দ্বিতীয়ত মশলার পরিমাণ ঠিক রাখুন। তৃতীয়ত চাল সিদ্ধের সময় লক্ষ রাখুন। চতুর্থত দম দেওয়ার সময় অপেক্ষা করুন ধৈর্য ধরে। পঞ্চমত বিরিয়ানি ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।
রেস্তোরাঁর মতো বিরিয়ানি বানাতে চাইলে রঙের ব্যবহার জরুরি। খাবার রং হলুদ বা কমলা ব্যবহার করুন। জাফরান ব্যবহার করলে আরও ভালো হয়। পেঁয়াজ ভাজা সঠিক রং না হলে বিরিয়ানি ফ্যাকাশে দেখায়। ঘি ব্যবহার করলে চকচকে দেখায় বিরিয়ানি। পুদিনা পাতা ছড়িয়ে দিলে দেখতে সুন্দর লাগে।
বিরিয়ানির স্বাদ নির্ভর করে দম দেওয়ার উপর। দম ঠিকমতো না দিলে চাল ও মুরগি আলাদা থাকে। দম দিলে সব মিশে একসাথে স্বাদ তৈরি হয়। তাই ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ করুন। মাঝে খোলা যাবে না একবারও। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন পূর্ণ সময়। দম শেষে ৫ মিনিট বন্ধ রাখুন। তারপর খুলে দেখবেন পারফেক্ট বিরিয়ানি তৈরি হয়েছে।
চিকেন বিরিয়ানির জন্য চাল ও মশলা মাপ
চিকেন বিরিয়ানির জন্য চাল ও মশলা মাপ জানা জরুরি। ভুল মাপ দিলে স্বাদ নষ্ট হয় বিরিয়ানির। নিচের টেবিলে সঠিক পরিমাণ দেওয়া আছে। এই মাপ অনুসরণ করলে সফল হবেন।
| উপকরণ | ১ কেজি মুরগির জন্য | ২ কেজি মুরগির জন্য |
| বাসমতী চাল | ৫০০ গ্রাম | ১ কেজি |
| পেঁয়াজ কুচি | ৩ কাপ | ৬ কাপ |
| দই | ১/২ কাপ | ১ কাপ |
| আদা-রসুন বাটা | ২ টেবিল চামচ | ৪ টেবিল চামচ |
| গরম মশলা | ১ চা চামচ | ২ চা চামচ |
| হলুদ গুঁড়া | ১/২ চা চামচ | ১ চা চামচ |
| মরিচ গুঁড়া | ১ চা চামচ | ২ চা চামচ |
| ঘি | ৩ টেবিল চামচ | ৬ টেবিল চামচ |
| তেল | ১/২ কাপ | ১ কাপ |
এই মাপ মেনে চললে বিরিয়ানি নিখুঁত হবে। বেশি মশলা দিলে ঝাল হয়ে যায়। কম দিলে স্বাদ ফ্যাকাশে হয়। তাই সঠিক পরিমাণ ব্যবহার করুন। চাল ও মুরগির অনুপাত ঠিক রাখুন। এক কেজি মুরগির জন্য আধা কেজি চাল যথেষ্ট। বেশি চাল দিলে বিরিয়ানি মাংস কম হয়। কম চাল দিলে শুকনো হয়ে যায়। সঠিক ব্যালেন্স রাখুন সবসময়।
দম বিরিয়ানি রেসিপি বাংলায়
দম বিরিয়ানি রেসিপি বাংলায় খুবই জনপ্রিয়। দম দেওয়া বিরিয়ানির স্বাদ অন্য রকম হয়। এই পদ্ধতিতে চাল ও মাংস একসাথে রান্না হয়। বাষ্পের মধ্যে সব উপকরণ মিশে যায়। ফলে স্বাদ গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ে। দম বিরিয়ানি তৈরি করতে সময় লাগে তবে স্বাদ অসাধারণ।
দম দেওয়ার জন্য হাঁড়ির ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ করুন। ময়দা পানিতে গুলে লেই বানান। হাঁড়ির কিনারায় লেই লাগিয়ে ঢাকনা বন্ধ করুন। এতে বাষ্প বের হতে পারবে না। তারপর খুব হালকা আঁচে ২৫ মিনিট রাখুন। মাঝখানে আঁচ বাড়াবেন না একদমই। সময় শেষে আঁচ বন্ধ করে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।
- দম দেওয়ার সময় হাঁড়ি নাড়াবেন না
- ভারী তলার হাঁড়ি ব্যবহার করুন দম বিরিয়ানিতে
- তাওয়ায় হাঁড়ি রেখে দম দিলে আরও ভালো হয়
- দম দেওয়ার পর ঢাকনা একবারেই খুলবেন
- লেই না লাগালেও সাবধানে দম দেওয়া যায়
চিকেন বিরিয়ানির গ্রেভি বানানোর উপায়
চিকেন বিরিয়ানির গ্রেভি বানানোর উপায় সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। গ্রেভি ঠিকমতো না হলে বিরিয়ানি শুকনো হয়। প্রথমে পেঁয়াজ ভালো করে ভাজুন সোনালি রং পর্যন্ত। তারপর আদা-রসুন বাটা দিয়ে নাড়ুন। টমেটো দিয়ে নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। দই মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন।
গ্রেভি ঘন হতে হবে পানি বেশি থাকবে না। মুরগি রান্না করার সময় রস বের হয়। সেই রস গ্রেভির সাথে মিশে যায়। তাই আলাদা পানি দেওয়ার দরকার নেই। মশলা ভালোভাবে ভেজে নিন তেলে। কাঁচা গন্ধ চলে গেলে মুরগি দিন। ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। গ্রেভি সুন্দর ঘন হয়ে গেলে তৈরি।
গ্রেভিতে টক স্বাদ চাইলে টমেটো বেশি দিন। ঝাল স্বাদ চাইলে সবুজ মরিচ ও মরিচ গুঁড়া বাড়ান। মিষ্টি স্বাদ চাইলে এক চামচ চিনি মেশান। গ্রেভির রং উজ্জ্বল করতে হলুদ ও মরিচ গুঁড়া দিন। গ্রেভি বেশি ঘন হলে সামান্য পানি দিন। বেশি পাতলা হলে আরেকটু রান্না করুন। গ্রেভি ঠিক হলে বিরিয়ানি পারফেক্ট হবে।
পোলাও ও বিরিয়ানি পার্থক্য
পোলাও ও বিরিয়ানি পার্থক্য অনেক মানুষ জানে না। দুটোই চালের খাবার কিন্তু রান্নার পদ্ধতি আলাদা। পোলাও সহজ এবং দ্রুত বানানো যায়। বিরিয়ানি জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। পোলাওতে চাল ও মাংস একসাথে রান্না হয়। বিরিয়ানিতে আলাদা করে তারপর লেয়ার করা হয়।
| বিষয় | পোলাও | বিরিয়ানি |
| রান্নার পদ্ধতি | একসাথে রান্না | আলাদা তারপর লেয়ার |
| মশলা | কম মশলা | বেশি মশলা |
| সময় | ৩০-৪৫ মিনিট | ১-২ ঘণ্টা |
| স্বাদ | হালকা | গভীর ও তীব্র |
| রং | হালকা হলুদ | গাঢ় হলুদ/লাল |
| দম দেওয়া | দরকার নেই | অবশ্যই দরকার |
| পানি | বেশি পানি | কম পানি |
| গ্রেভি | পাতলা | ঘন |
পোলাওতে ঘি ও মশলা কম থাকে। বিরিয়ানিতে ঘি ও মশলা বেশি ব্যবহার হয়। পোলাও প্রতিদিনের খাবার হতে পারে। বিরিয়ানি বিশেষ অনুষ্ঠানের খাবার। পোলাও সাদাসিধা স্বাদের হয়। বিরিয়ানির স্বাদ জটিল ও মসলাদার। দুটোই সুস্বাদু কিন্তু ভিন্ন ধরনের খাবার।
চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি ভিডিও
চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি ভিডিও দেখলে রান্না শিখতে সহজ হয়। ইউটিউবে অনেক ভালো ভিডিও আছে বাংলায়। ভিডিওতে প্রতিটি ধাপ দেখানো হয়। তাই নতুনরা সহজে বুঝতে পারেন। আমি সাজেস্ট করব কয়েকবার ভিডিও দেখুন। তারপর নিজে চেষ্টা করুন বানাতে।
ভিডিও দেখার সময় নোট করুন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। মশলার পরিমাণ লিখে রাখুন কাগজে। সময়ের হিসাব মনে রাখুন প্রতিটি ধাপের। প্রথমবার ভুল হতে পারে ঘাবড়াবেন না। দ্বিতীয়বার আরও ভালো হবে। অভিজ্ঞতা বাড়লে পারফেক্ট বিরিয়ানি বানাতে পারবেন।
কিছু জনপ্রিয় বাংলা ফুড চ্যানেল আছে ইউটিউবে। তারা খুব সুন্দরভাবে বিরিয়ানি রেসিপি শেখায়। চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন নিয়মিত দেখার জন্য। ভিডিও দেখে এবং এই লেখা পড়ে রান্না করুন। দুটো মিলিয়ে বুঝলে আর কোনো সমস্যা হবে না। আপনিও হয়ে যাবেন বিরিয়ানি মাস্টার।
১ কেজি চালের চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি
১ কেজি চালের চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি বড় পরিবারের জন্য। এই পরিমাণে ১০-১২ জন খেতে পারবে। বড় হাঁড়ি লাগবে রান্না করতে। উপকরণও বেশি পরিমাণে প্রয়োজন। সঠিক মাপ জানা থাকলে সহজ হবে।
| উপকরণ | পরিমাণ |
| বাসমতী চাল | ১ কেজি |
| মুরগি | ২ কেজি |
| পেঁয়াজ কুচি | ৬ কাপ |
| টমেটো | ৪টি মাঝারি |
| দই | ১ কাপ |
| আদা বাটা | ৪ টেবিল চামচ |
| রসুন বাটা | ৪ টেবিল চামচ |
| সবুজ মরিচ | ৮-১০টি |
| ধনেপাতা | ১ কাপ |
| পুদিনা পাতা | ১ কাপ |
| গরম মশলা | ২ চা চামচ |
| হলুদ গুঁড়া | ১ চা চামচ |
| মরিচ গুঁড়া | ২ চা চামচ |
| ঘি | ৬ টেবিল চামচ |
| তেল | ১ কাপ |
| লবণ | স্বাদমতো |
এই পরিমাণ উপকরণ দিয়ে দারুণ বিরিয়ানি হবে। রান্নার পদ্ধতি একই থাকবে শুধু পরিমাণ বেশি। সময়ও একটু বেশি লাগবে স্বাভাবিকভাবে। বড় হাঁড়িতে দম দিতে ৩৫-৪০ মিনিট লাগতে পারে। ধৈর্য ধরে রান্না করুন ভালো ফল পাবেন। বড় পরিবার বা দাওয়াতের জন্য এই রেসিপি পারফেক্ট।
২ কেজি চালের চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি
২ কেজি চালের চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি বিশাল দাওয়াতের জন্য। এই পরিমাণে ২০-২৫ জন মানুষ খেতে পারবে। অনেক বড় হাঁড়ি দরকার হবে। অথবা দুটো হাঁড়িতে ভাগ করে রান্না করুন। উপকরণের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে হবে ১ কেজি চালের থেকে।
২ কেজি চালের জন্য ৪ কেজি মুরগি লাগবে। পেঁয়াজ ১২ কাপ কুচি করে নিন। দই ২ কাপ এবং টমেটো ৮টি মাঝারি সাইজ। আদা-রসুন বাটা ৮ টেবিল চামচ করে নিন। সবুজ মরিচ ১৫-২০টি দরকার হবে। ধনেপাতা ও পুদিনা ২ কাপ করে নিন। মশলার পরিমাণ দ্বিগুণ করুন সব। ঘি আধা কাপ এবং তেল ২ কাপ লাগবে।
- বড় পরিমাণে রান্না করলে সাহায্য নিন অন্যদের
- দুটো হাঁড়িতে ভাগ করে রান্না করা সহজ
- সব উপকরণ আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন
- একসাথে দম দিতে হবে দুটো হাঁড়ি
- পরিবেশনের আগে দুই হাঁড়ির বিরিয়ানি মিশিয়ে নিন
চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি সহজ পদ্ধতি
চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি সহজ পদ্ধতি অনেকে খোঁজেন। জটিল পদ্ধতি বুঝতে কষ্ট হয়। তাই সহজভাবে চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি শিখুন। প্রথমে চাল ভিজিয়ে রাখুন ঠান্ডা পানিতে। মুরগি দই ও মশলা দিয়ে মাখিয়ে রাখুন। এতে মেরিনেট হয়ে যাবে।
একটা হাঁড়িতে তেল গরম করুন। পেঁয়াজ ভাজুন সোনালি করে তুলুন। মেরিনেট করা মুরগি দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে ২০ মিনিট রান্না করুন। অন্য পাত্রে চাল সিদ্ধ করুন ৭০ শতাংশ। মুরগির উপর চাল দিন স্তর করে। ঘি ছড়িয়ে ঢাকনা বন্ধ করুন। ২৫ মিনিট দম দিন হালকা আঁচে। এই সহজ পদ্ধতিতে বিরিয়ানি তৈরি।
সহজ পদ্ধতিতেও স্বাদ কমবে না একদমই। শুধু ধাপগুলো সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। মূল প্রক্রিয়া একই থাকছে সব জায়গায়। নতুনরা এই পদ্ধতি ফলো করুন প্রথমে। অভিজ্ঞতা বাড়লে বিস্তারিত পদ্ধতি চেষ্টা করুন। সহজ পদ্ধতি দ্রুত এবং কম ঝামেলার। ব্যস্ত দিনে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।
চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি ঘরোয়া স্টাইল

চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি ঘরোয়া স্টাইল মানে পরিবারের জন্য রান্না। রেস্তোরাঁর মতো জটিল না হয়ে সহজ পদ্ধতি। ঘরোয়া স্টাইলে মশলা একটু কম থাকে। স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা হয়। পরিবারের সবাই খেতে পারে এমন স্বাদ।
ঘরোয়া বিরিয়ানিতে খাবার রং কম দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক রং হলুদ থেকেই আসে বেশি। তেল ও ঘি পরিমাণমতো ব্যবহার করা হয়। বেশি তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ঝাল মশলাও কম দেওয়া হয় বাচ্চাদের কথা ভেবে। ঘরোয়া স্টাইল মানে পরিবার বান্ধব রান্না।
- ঘরে রান্না করলে তাজা খাবার পাবেন
- বাইরের খাবারের চেয়ে স্বাস্থ্যকর
- খরচ অনেক কম পড়ে ঘরে বানালে
- পরিবারের পছন্দমতো স্বাদ করতে পারবেন
- ঘরোয়া বিরিয়ানিতে ভালোবাসার স্পর্শ থাকে
চিকেন বিরিয়ানির জন্য মুরগি প্রস্তুত করার নিয়ম
চিকেন বিরিয়ানির জন্য মুরগি প্রস্তুত করার নিয়ম জানা জরুরি। মুরগি ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। ঠান্ডা পানিতে কয়েকবার ধুয়ে নিন। ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন। হাড়সহ টুকরো করলে স্বাদ বেশি হয়। তবে হাড় ছাড়া টুকরোও ব্যবহার করা যায়।
মুরগি কাটার পর লবণ ও হলুদ দিয়ে মেখে ধুয়ে নিন। এতে কাঁচা গন্ধ দূর হয়ে যায়। তারপর দই, মশলা, লেবুর রস দিয়ে মাখান। আদা-রসুন বাটা ভালোভাবে মিশিয়ে দিন। লবণ ও গরম মশলা যোগ করুন। ভালোভাবে মেখে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। এই মেরিনেশন মুরগি নরম ও সুস্বাদু করে।
মেরিনেট করা মুরগি ফ্রিজে রাখতে পারেন রাতভর। তাহলে মশলা গভীরভাবে ঢুকে যায়। রান্নার সময় মুরগি দ্রুত সিদ্ধ হয়। মেরিনেশন যত বেশি সময় তত ভালো স্বাদ। তবে ন্যূনতম ৩০ মিনিট জরুরি। সঠিকভাবে প্রস্তুত মুরগি বিরিয়ানির স্বাদ বাড়ায়। তাই এই ধাপ এড়িয়ে যাবেন না কখনো।
চিকেন বিরিয়ানির সাথে পরিবেশনের উপকরণ
চিকেন বিরিয়ানির সাথে পরিবেশনের উপকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বিরিয়ানি হলেই হয় না সাইড ডিশও চাই। প্রথমেই দরকার ঠান্ডা সালাদ। শসা, টমেটো, পেঁয়াজ, লেবু কেটে সালাদ বানান। একটু লবণ ও মরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে দিন। সালাদ বিরিয়ানির সাথে পারফেক্ট।
দ্বিতীয়ত বোরহানি বা রায়তা পরিবেশন করুন। দই, পুদিনা, জিরা গুঁড়া দিয়ে বোরহানি বানান। রায়তা বানাতে দই, শসা, পুদিনা মিশিয়ে নিন। ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন বিরিয়ানির সাথে। তৃতীয়ত আচার রাখুন পাশে। টক ঝাল আচার বিরিয়ানির স্বাদ বাড়ায়।
আলু ভাজা অনেকের পছন্দ বিরিয়ানির সাথে। সিদ্ধ ডিম কেটে সাজিয়ে দিন। কাবাব বা চিকেন ফ্রাই সাইড ডিশ হতে পারে। পেঁয়াজ ভাজা কুচি করে ছড়িয়ে দিন বিরিয়ানির উপর। লেবুর টুকরো দিন প্লেটে। এই সব উপকরণ বিরিয়ানির অভিজ্ঞতা পূর্ণ করে। সুন্দরভাবে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
উপসংহার
সহজভাবে চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি শিখে ফেললেন এবার। এই লেখায় বিরিয়ানি রান্নার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া দেওয়া আছে। উপকরণ থেকে শুরু করে পরিবেশন পর্যন্ত সব। প্রতিটি ধাপ সহজ ভাষায় বোঝানো হয়েছে। টেবিল ও বুলেট পয়েন্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া আছে। এখন আপনার পালা ঘরে চেষ্টা করার।
প্রথমবার হয়তো পারফেক্ট নাও হতে পারে। কিন্তু হতাশ হবেন না একদমই। বারবার চেষ্টা করলে দক্ষ হয়ে যাবেন। বিরিয়ানি রান্নায় ধৈর্য সবচেয়ে জরুরি। তাড়াহুড়া করলে স্বাদ নষ্ট হয়। সময় নিয়ে প্রতিটি ধাপ মেনে চলুন।
এই রেসিপি আপনার পরিবার ও বন্ধুদের খুশি করবে। বিশেষ দিনে ঘরে বিরিয়ানি বানান। সবাই মিলে উপভোগ করুন সুস্বাদু খাবার। রান্নার আনন্দ উপলব্ধি করুন। আপনার রান্না করা বিরিয়ানি হবে পরিবারের প্রিয় খাবার। শুভ রান্না এবং ভালো থাকুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী(FAQs)
বিরিয়ানি রান্না করতে কতক্ষণ সময় লাগে?
সহজভাবে চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি অনুসরণ করলে ১ থেকে ২ ঘণ্টা লাগে। প্রস্তুতি পর্ব ৩০ মিনিট সময় নেয়। রান্না এবং দম দিতে ১ ঘণ্টা লাগে। তবে মেরিনেশনে বেশি সময় দিলে আরও ভালো স্বাদ হয়। সব মিলিয়ে মোট সময় ২ ঘণ্টার মতো।
বিরিয়ানির জন্য কোন চাল সবচেয়ে ভালো?
বাসমতী চাল বিরিয়ানির জন্য সবচেয়ে ভালো। লম্বা দানার বাসমতী চাল ব্যবহার করুন। এই চাল রান্নায় ভেঙে যায় না। সুগন্ধ ও স্বাদ দুটোই চমৎকার হয়। মিনিকেট বা অন্য চাল দিয়ে আসল স্বাদ পাবেন না।
বিরিয়ানি কি প্রেসার কুকারে বানানো যায়?
হ্যাঁ, প্রেসার কুকারে বিরিয়ানি বানানো যায়। তবে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির মতো স্বাদ হয় না। প্রেসার কুকারে সময় কম লাগে মাত্র ৪০ মিনিট। কিন্তু দম বিরিয়ানির আসল স্বাদ পেতে হাঁড়িতে রান্না করুন। দ্রুত রান্না করতে চাইলে প্রেসার কুকার ব্যবহার করতে পারেন।
বিরিয়ানি শুকনো হয়ে গেলে কী করব?
বিরিয়ানি শুকনো হলে সামান্য গরম পানি বা দুধ ছিটিয়ে দিন। তারপর ঢাকনা বন্ধ করে ৫ মিনিট দম দিন। অথবা গরম ঘি ছিটিয়ে হালকা নাড়ুন। পরের বার রান্নায় গ্রেভি একটু বেশি রাখুন। মুরগিতে পর্যাপ্ত রস থাকলে বিরিয়ানি শুকায় না।
বিরিয়ানিতে কী কী মশলা অবশ্যই লাগে?
বিরিয়ানিতে গরম মশলা অবশ্যই লাগে। এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা দরকার। হলুদ, মরিচ, জিরা গুঁড়া লাগবে। আদা-রসুন বাটা ছাড়া বিরিয়ানি হয় না। জাফরান বা কেশর দিলে আরও ভালো হয়। তবে না থাকলেও চলবে।
বিরিয়ানি কতদিন ভালো থাকে?
ফ্রিজে রাখলে বিরিয়ানি ২-৩ দিন ভালো থাকে। এয়ারটাইট কনটেইনারে সংরক্ষণ করুন। গরম করে খেতে হবে আবার। ফ্রিজারে রাখলে ১ মাস পর্যন্ত রাখা যায়। তবে তাজা বিরিয়ানির স্বাদই আলাদা। তাই তৈরির দিনই খেয়ে ফেলা ভালো।
বিরিয়ানিতে রং না দিলে কি হবে?
বিরিয়ানিতে রং না দিলেও কোনো সমস্যা নেই। স্বাদে কোনো তফাৎ হবে না একদমই। শুধু দেখতে একটু ফ্যাকাশে লাগবে। হলুদ দিলে প্রাকৃতিক হলুদ রং আসে। রং ছাড়া বিরিয়ানি বেশি স্বাস্থ্যকর। তাই রং না দিলেও চলবে নির্দ্বিধায়।
বিরিয়ানি ঝাল কমাতে কী করব?
বিরিয়ানি ঝাল বেশি হলে দই বেশি দিন। টমেটো যোগ করলে ঝাল কমে যায়। চিনি এক চামচ মিশিয়ে দিন। লেবুর রস ছিটিয়ে দিলেও কাজ হয়। পরের বার মরিচের পরিমাণ কমিয়ে দিন। সবুজ মরিচ কম ব্যবহার করুন।
বিরিয়ানি নিচে পুড়ে গেলে কী করব?
বিরিয়ানি নিচে পুড়ে গেলে সাবধানে উপরের অংশ তুলুন। পোড়া অংশ ফেলে দিন না মেশাবেন না। পোড়া গন্ধ সরাতে হাঁড়িতে পেঁয়াজ কুচি রেখে ঢাকুন। আধা ঘণ্টা পর পেঁয়াজ ফেলে দিন। পরের বার একদম হালকা আঁচে দম দিন।
বিরিয়ানিতে আলু দেওয়া যায় কি?
হ্যাঁ, বিরিয়ানিতে আলু দেওয়া যায়। আলু ভাজা বা সিদ্ধ দুইভাবেই দেওয়া যায়। অনেকে আলু দিয়ে বিরিয়ানি পছন্দ করেন। আলু মুরগির সাথে রান্না করতে পারেন। অথবা আলাদা ভেজে পরে মিশিয়ে দিন। আলু বিরিয়ানির স্বাদ বাড়ায়।
জাফরান না থাকলে কী দেব?
জাফরান না থাকলে হলুদ খাবার রং ব্যবহার করুন। কমলা রং ব্যবহার করতে পারেন। হলুদ গুঁড়া বেশি দিলেও রং আসবে। তবে জাফরানের সুগন্ধ পাবেন না। জাফরান ছাড়াও বিরিয়ানি ভালো হয় চিন্তা নেই।
বিরিয়ানি কি ওভেনে বানানো যায়?
হ্যাঁ, ওভেনে বিরিয়ানি বানানো যায়। প্রথমে চুলায় মুরগি রান্না করুন। তারপর চাল ও মুরগি লেয়ার করে ওভেন ডিশে রাখুন। ১৮০ ডিগ্রিতে ৩০-৪০ মিনিট বেক করুন। ফয়েল দিয়ে ঢেকে রাখুন ওভেনে। এভাবে ওভেন বিরিয়ানি তৈরি করা যায়।
বিরিয়ানির জন্য কোন মুরগি ভালো?
দেশি মুরগি দিয়ে বিরিয়ানি সবচেয়ে ভালো হয়। তবে দাম বেশি পড়ে দেশি মুরগিতে। ফার্মের মুরগি দিয়েও ভালো বিরিয়ানি হয়। তাজা মুরগি কিনুন সবসময়। হিমায়িত মুরগি এড়িয়ে চলুন। ছোট টুকরো মুরগি দ্রুত সিদ্ধ হয়।
বিরিয়ানি কি নিরামিষ বানানো যায়?
হ্যাঁ, নিরামিষ বিরিয়ানি বানানো যায়। মুরগির বদলে সবজি ব্যবহার করুন। আলু, গাজর, মটরশুঁটি, ফুলকপি দিন। পনির দিলেও ভালো হয়। মাশরুম দিয়ে বিরিয়ানি সুস্বাদু হয়। রান্নার পদ্ধতি একই থাকবে শুধু মাংস নেই।
বিরিয়ানি গরম না ঠান্ডা খাওয়া ভালো?
বিরিয়ানি অবশ্যই গরম খাওয়া ভালো। গরম বিরিয়ানির স্বাদ ও ঘ্রাণ অসাধারণ। ঠান্ডা হলে স্বাদ কমে যায়। তবে সামান্য ঠান্ডা বিরিয়ানিও খাওয়া যায়। ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করে নিন। তারপর খান ভালো স্বাদের জন্য।
বিরিয়ানি বানাতে কি বিশেষ হাঁড়ি লাগে?
বিশেষ হাঁড়ি লাগে না তবে ভারী তলার হাঁড়ি ভালো। নন-স্টিক হাঁড়ি ব্যবহার করতে পারেন। ঢাকনাওয়ালা হাঁড়ি নিন অবশ্যই। মাটির হাঁড়িতে বিরিয়ানি দারুণ হয়। তবে যেকোনো ভালো হাঁড়িতেই বানানো যায়। হাঁড়ির সাইজ মুরগি ও চালের পরিমাণ অনুযায়ী নিন।
বিরিয়ানি রান্নার সবচেয়ে বড় ভুল কী?
বিরিয়ানি রান্নার সবচেয়ে বড় ভুল তাড়াহুড়া করা। দম দেওয়ার সময় ঢাকনা খুলে ফেলা ভুল। চাল বেশি সিদ্ধ করা আরেকটি বড় ভুল। মশলার পরিমাণ ভুল হলে স্বাদ নষ্ট হয়। আঁচ বেশি দিলে নিচে পুড়ে যায়। এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন।
বিরিয়ানির সাথে কী খাওয়া যায়?
বিরিয়ানির সাথে রায়তা বা বোরহানি খান। সালাদ অবশ্যই রাখুন পাশে। আচার দিয়ে খেতে পারেন। চিকেন রোস্ট বা কাবাব সাইড ডিশ হিসেবে ভালো। পাপড় ভেজে পরিবেশন করুন। কোমল পানীয় বা লাচ্ছি খেতে পারেন। এসব বিরিয়ানির সাথে মানানসই।
বিরিয়ানি কি ডায়াবেটিক রোগীরা খেতে পারে?
ডায়াবেটিক রোগীরা বিরিয়ানি সীমিত পরিমাণে খেতে পারে। বাসমতী চালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তেল ও ঘি কম দিয়ে রান্না করুন। বেশি সবজি যোগ করুন বিরিয়ানিতে। চিনি দেবেন না একদমই। ছোট পরিমাণে খান সাবধানে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খান।
বিরিয়ানি শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় কী?
বিরিয়ানি শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় বারবার চেষ্টা করা। প্রথমে ভিডিও দেখুন ভালোভাবে। এই সহজভাবে চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি পড়ুন মনোযোগ দিয়ে। তারপর নিজে হাতে বানান। ভুল হলে শিখুন সেখান থেকে। অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে শিখতে পারেন। অনুশীলনই সফলতার চাবিকাঠি।
🔥 পোস্টটি শেয়ার করুনঃ 📲






